মহান জাতীয় সংসদকে জনগণের অধিকার রক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান (Tarique Rahman) বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত এবং জবাবদিহিমূলক একটি কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তাই জনগণের দেখভাল করাই সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তৃতায় তিনি এই মন্তব্য করেন। বক্তব্যজুড়ে তিনি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত প্রবাস জীবন, শিক্ষা সংস্কার এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার নানা দিক তুলে ধরেন।
দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে তাকে যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ সময় কাটাতে হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রবাসে থাকা অবস্থায় সেখানকার শিক্ষা ব্যবস্থার মান তাকে ভাবিয়ে তুলত। তিনি প্রায়ই চিন্তা করতেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা কবে এমন উন্নত পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পাবে।
শিক্ষা খাতে বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় তিনি সন্তুষ্ট নন। তার ভাষায়, তিনি আংশিক নয়, বরং আমূল পরিবর্তন চান। সেই লক্ষ্যেই আগামী জুলাই থেকে সরকার পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ব্যাগ, ড্রেস এবং জুতা সরবরাহ করবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য সম্মানজনক ও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করে তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি। তিনি বলেন, সেই সব মানুষের স্বপ্ন ছিল একটি মুক্ত সমাজ, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে কর্মসংস্থান পাবে। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।
নারী শিক্ষার প্রসারে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, অতীতে বিএনপি সরকারের সময় দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের জন্য শিক্ষা অবৈতনিক করা হয়েছিল। এবার সেই উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করে স্নাতক (ডিগ্রি) পর্যায় পর্যন্ত নারী শিক্ষাকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হবে।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি স্বীকার করেন, এই সমস্যার কারণে দেশের মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়েছে। তবে এই সংকট নিরসনে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দলের প্রস্তাব গ্রহণ করে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা দ্রুত কার্যকর সমাধান নিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বন্যা ও জলাবদ্ধতার প্রভাব নিয়েও তিনি কথা বলেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


