নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ শুরু—ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালুর ঘোষণা মির্জা ফখরুলের

এলজিআরডি মন্ত্রী ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Fakhrul Islam Alamgir) বলেছেন, নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সরকার গঠন করলে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে—এখন সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে দেওয়া কথার প্রতি দায়বদ্ধ থেকেই সরকার এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা (Thakurgaon Sadar Upazila) এলাকার রহিমানপুর ইউনিয়ন (Rahimanpur Union) সম্মিলিত ইউআই আলিম মাদরাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “এটি কেবল সময়ের ব্যাপার—ক্রমশ সবার হাতেই কার্ড পৌঁছে যাবে।”

তার ভাষায়, ফ্যামিলি কার্ড শুধু একটি প্রশাসনিক নথি নয়, বরং এটি পরিবার ও সমাজে মর্যাদা এবং ক্ষমতায়নের প্রতীক। বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে পরিবারের নারী সদস্যরাও সামাজিকভাবে স্বীকৃতি ও গুরুত্ব পাবেন এবং পুরুষরাও তাদের গুরুত্ব দিতে শুরু করবেন।

এ সময় তিনি দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই অঞ্চল থেকে কর্মসূচিটি শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা এখানকার মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ ও সম্মানের বিষয়।

মন্ত্রী আরও জানান, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২২ দিনের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী ১৬ মার্চ থেকে খাল-খনন কর্মসূচি শুরু হবে, যাতে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে খরার সময় কৃষিকাজে ব্যবহার করা যায়।

তিনি বলেন, প্রত্যেক কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ এবং সেচের উপকরণ সংগ্রহ করতে পারবেন, যা কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party) মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দেশের গত ১৫ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনেক সময় আইনকানুনের সঠিক প্রয়োগ ছিল না এবং বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। আগে বিভিন্ন ধরনের কার্ড বা সরকারি সুবিধা পেতে মানুষের অর্থ খরচ করতে হতো বলে অভিযোগ ছিল। তবে এবার কোনো ধরনের অর্থ ছাড়াই মানুষ এই কার্ড পাবে।

তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কাউকে অবহেলা করা হবে না। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষই এই সুবিধার আওতায় আসবেন। এমনকি নারী ডিসি ও এসপিরাও এই কার্ড পাবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে কার্ডটি কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেও তিনি জানান।

নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনের আগে তিনি ঘোষণা করেছিলেন এটি তার শেষ নির্বাচন। জনগণ তাকে নির্বাচিত করেছেন—এটি তার প্রতি জনগণের আস্থা। সেই আস্থা ও ঋণ পুরোপুরি শোধ করা সম্ভব নয়, তবে তিনি বাস্তব কিছু উন্নয়নমূলক কাজ করে যেতে চান।

তিনি আরও বলেন, আগামী ২০২৭ সাল থেকে এই অঞ্চলে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি একটি বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি বিমানবন্দর নির্মাণের কাজও শুরু করা হবে। তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং নতুন প্রজন্মকে মাদকের প্রভাব থেকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডা. আব্দুস সালাম (Dr. Abdus Salam), বিভাগীয় কমিশনার শহীদুল ইসলাম (Shahidul Islam), জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা, বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উপকারভোগীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *