ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো মরণঘাতী রোগের ঝুঁকি থেকে দেশবাসীকে সুরক্ষিত রাখতে বাসাবাড়ি এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সরকারের উদ্যোগে আগামী ১৪ মার্চ (শনিবার) থেকে প্রতি সপ্তাহে সারাদেশে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে।
বুধবার (১১ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় (Prime Minister’s Office) থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, জনগণকে সম্পৃক্ত করে প্রতি সপ্তাহের শনিবার সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিজ নিজ এলাকায় বসতবাড়ি এবং আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়ার মতো মরণঘাতী রোগ এখন জনগণের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ আমরা যদি সবাই সচেতন হই, তাহলে এই রোগগুলো থেকে নিজেদের রক্ষা করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষ ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়। তাই আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি।’
তিনি আরও বলেন, বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশা দ্রুত বংশবিস্তার করে। কোথাও টানা তিন দিন পানি জমে থাকলেই সেখানে মশার জন্ম নিতে পারে। কীটতত্ত্ববিদ ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মশার প্রজনন নিয়ন্ত্রণের জন্য ড্রেন, ডোবা কিংবা নর্দমার মতো যেসব স্থানে পচা পানি জমে থাকার সুযোগ থাকে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে নাগরিকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘ফুলের টব, ড্রাম, বালতি, পরিত্যক্ত টায়ার কিংবা বাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকতে দেবেন না। বাড়ি বা বাসার ছাদেও যেন পানি না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পানির ট্যাংক অবশ্যই ঢেকে রাখতে হবে এবং অন্তত সপ্তাহে একবার ঘরের ভেতর ও বাইরের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে।’
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্নতা—এই দুই বিষয়কে সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগামী ১৪ মার্চ থেকে প্রতি সপ্তাহে সারাদেশে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হবে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নিয়মিত এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়ার মতো মরণঘাতী জ্বর থেকে জনগণ নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারবে—ইনশাআল্লাহ।’


