অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বিএনপি সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দেওয়ার অধ্যাদেশ গ্রহণের সিদ্ধান্তকে সামনে রেখে। সরকারি দল এই অধ্যাদেশ গ্রহণ করবে—এমন ঘোষণা আসার পরপরই তিনি প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া জানান।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকাল ৫টা ৪৮ মিনিটে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে আসিফ নজরুল উল্লেখ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী সরকার জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দেওয়ার অধ্যাদেশ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
এর আগে একই দিন সকালে সংসদে বিশেষ কমিটির বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকা অধ্যাদেশগুলো সরকার গ্রহণ করবে। তিনি বলেন, বৈঠকে বিভিন্ন অধ্যাদেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রণীত অধ্যাদেশগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কার জনআকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতাকে সামনে রেখে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশেষ করে কিছু অধ্যাদেশে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের জন্য ইনডেমনিটির বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেগুলো গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছে। একইসঙ্গে বিগত সরকারের সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন বা বিলুপ্তির বিষয়েও সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, কিছু অধ্যাদেশ সংশোধন সাপেক্ষে গ্রহণ করা হবে, আবার কিছু ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে সংসদে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করেন। পরে সেগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সভাপতি বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা জয়নুল আবেদীন। কমিটিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তবে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকায় এই বৈঠকে অংশ নিতে পারেননি।


