তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে রূপান্তরের দাবি, ই-সিগারেট নিষিদ্ধের ওপর জোর

ক্ষতিকর ই-সিগারেট নিষিদ্ধের সুস্পষ্ট বিধান অন্তর্ভুক্ত করে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটিকে দ্রুত আইনে রূপান্তরের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (Poribesh Bachao Andolon – Poba)। বুধবার (১ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ দাবি তোলে।

বিবৃতিতে বলা হয়, তামাক কেবল একটি স্বাস্থ্যঝুঁকিই নয়, বরং এটি খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশের ওপরও এক গভীর সংকট সৃষ্টি করছে। তামাকের উৎপাদন থেকে শুরু করে প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং ব্যবহার—প্রতিটি ধাপেই পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে সিগারেট তৈরির জন্য নির্বিচারে গাছ কেটে ফেলার ফলে বনভূমি ধ্বংস হচ্ছে, একই সঙ্গে বায়ুদূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের গতি আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে।

সংগঠনটি আরও জানায়, বাংলাদেশ (Bangladesh)-এর বিভিন্ন অঞ্চলে গড়ে ওঠা তামাক কারখানাগুলো থেকে নির্গত ধোঁয়া, ধুলিকণা এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান আশপাশের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করছে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে।

প্রতিবছর দেশে তামাক ব্যবহারের কারণে প্রায় ১ লাখ ৯৯ হাজার ১৪৯ মানুষ অকালে প্রাণ হারাচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে বছরে প্রায় ৮৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই বিপুল ক্ষতি দেশের স্বাস্থ্যখাত, পরিবেশ সংরক্ষণ, দারিদ্র্য হ্রাস এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এদিকে ইতিবাচক দিক হিসেবে সংগঠনটি উল্লেখ করে, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ (13th National Parliament)-এর প্রথম অধিবেশনে আইন আকারে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে ই-সিগারেটের আমদানি, উৎপাদন, বিতরণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার বিষয়টি অন্যতম।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তামাক কোম্পানিগুলো ই-সিগারেটকে তুলনামূলক কম ক্ষতিকর হিসেবে উপস্থাপন করে এর বাজার বিস্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য এক মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে। বিশ্বব্যাপী ই-সিগারেটের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকায় ইতোমধ্যে ১৩২টি দেশ এ পণ্য নিয়ন্ত্রণ বা নিষিদ্ধ করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের বিধানসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি দ্রুত আইনে রূপান্তরের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে পবা। সংগঠনটি চলমান সংসদ অধিবেশনেই অধ্যাদেশটি আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা যেন তামাক কোম্পানিগুলোর অনৈতিক প্রভাব উপেক্ষা করে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *