ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিরোধী দলের ওয়াকআউটের ঘটনায়। অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে, বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami)-এর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট হঠাৎ করেই অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করে।
ওই সময় জামায়াতে ইসলামী ছাড়াও জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party – NCP)-সহ জোটের অন্য সংসদ সদস্যরাও ওয়াকআউটে অংশ নেন। তাদের অভিযোগ, ‘জুলাই সনদ’ আদেশ এখনো জারি করা হয়নি এবং বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে সংসদে ‘মিসকোট’ করা হয়েছে—যা তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এই দুই ইস্যুকে কেন্দ্র করেই তারা সংসদ অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
গত ১২ মার্চ শুরু হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সেই শুরুর দিনেই রাষ্ট্রপতির ভাষণ প্রত্যাখ্যান করে অধিবেশন বর্জন করেছিলেন বিরোধী দলের সদস্যরা। তবে এরপর এই প্রথমবার কোনো নির্দিষ্ট ইস্যুকে কেন্দ্র করে তারা সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে ওয়াকআউট করলেন।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপটও এই উত্তেজনার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP)। অন্যদিকে সংসদে প্রধান বিরোধী দলের আসনে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, যারা একটি বিস্তৃত জোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেয়।
এই জোটে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তরুণ নেতৃত্বের দল এনসিপি ছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (Bangladesh Khelafat Majlis) এবং খেলাফত মজলিসের অন্যান্য প্রতিনিধি। এবারের নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট মোট ৭৭টি আসনে জয় লাভ করে, যা তাদের সংসদে শক্তিশালী বিরোধী অবস্থান নিশ্চিত করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদের ভেতরে ও বাইরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই ওয়াকআউট, যা ভবিষ্যতে আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সংলাপের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।


