লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ১৭৫ জন বাংলাদেশি নাগরিক অবশেষে দেশে ফিরেছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে তারা দেশে পৌঁছান, যা তাদের জন্য এক স্বস্তির নিঃশ্বাসের মুহূর্ত হয়ে আসে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। পুরো কার্যক্রমে লিবিয়া সরকার এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (International Organization for Migration – IOM)-এর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ১১৩ জন এবং বেনগাজীর গানফুদা ডিটেনশন সেন্টার থেকে ৬২ জনকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা আর দুর্ভোগের পর তাদের এই ফিরে আসা পরিবারগুলোর জন্যও এক বড় স্বস্তির খবর।
বুধবার ভোর ৬টা ২৫ মিনিটে বুরাক এয়ার (Buraq Air)-এর একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে করে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Hazrat Shahjalal International Airport)-এ অবতরণ করেন।
জানা গেছে, প্রত্যাবাসিতদের অধিকাংশই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে পৌঁছানোর আশায় মানবপাচারকারীদের প্ররোচনায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। সেখানে গিয়ে তারা নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। অনেকেই অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন, যা তাদের জীবনের এক ভয়াবহ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
দেশে ফেরার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান। এ সময় প্রত্যাবাসিতদের শারীরিক ও মানসিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়।
একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা নিজেদের এই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা সমাজের অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। এতে করে ভবিষ্যতে কেউ যেন অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ যাত্রার সিদ্ধান্ত না নেয়—সে বার্তাই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।


