বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। দীর্ঘ ৫৩ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো ট্রেজারি বেঞ্চ বা সরকারি দলের কোনো সদস্যের আনা মুলতবি প্রস্তাব আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Hafiz Uddin Ahmed)।
বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক (Zainul Abdin Faruq)। প্রস্তাবটি গ্রহণ করে স্পিকার এর ওপর আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করেন।
প্রস্তাব উত্থাপনকালে জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ ও আন্দোলনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বে সংঘটিত জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের ফলাফল হিসেবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণীত হয়েছে। তার ভাষায়, এই সনদ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার একটি দিকনির্দেশনা।
তিনি কার্যপ্রণালী বিধির ৬২ ধারা অনুযায়ী মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করে বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ মূলত একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল, যেখানে সংবিধান সংশোধনসহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন, সংশোধন ও পরিমার্জনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা রয়েছে।
এই সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য সংসদের নিয়মিত কার্যক্রম স্থগিত রেখে বিস্তারিত আলোচনা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রস্তাবটি গ্রহণ করে স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সদস্য, আপনার উত্থাপিত প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কার্যপ্রণালী বিধির ৬৫(২) অনুযায়ী এটি আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হলো।’
তিনি আরও জানান, সংসদের চলমান কার্যসূচি বিবেচনায় আগামী ৫ এপ্রিল রবিবার দিনের সর্বশেষ কার্যক্রম হিসেবে এই প্রস্তাবের ওপর সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে সরকারি দলের কোনো সদস্য মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। আমরা নির্ধারিত দিনে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।’
এই ঘটনাকে সংসদীয় কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


