যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক (Aminul Haque) জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট সফরে আসছেন তারেক রহমান (Tarique Rahman)। ওই দিন সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে একযোগে দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি।
বুধবার (১ এপ্রিল) সিলেট জেলা স্টেডিয়াম (Sylhet District Stadium) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্টেডিয়ামের জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার ভাষ্য, গত ১৬ বছরে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ক্রীড়াখাতে উন্নয়নের নামে হয়েছে ব্যাপক দুর্নীতি ও লুটপাট।
তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে ক্ষমতায় থেকে উন্নয়নের আড়ালে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। যার ফলেই আজ দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এই স্টেডিয়ামের এমন করুণ চিত্র।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন করে গড়ে তুলতেই সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান আমিনুল হক। তিনি বলেন, ৩০ এপ্রিল সিলেট জেলা স্টেডিয়ামসহ দেশের প্রতিটি জেলায় একযোগে ‘নতুন ক্রীড়া কর্মসূচি’ চালু হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিভা অন্বেষণের এই উদ্যোগের উদ্বোধন করবেন।
প্রথম ধাপে ফুটবল ও ক্রিকেটসহ সাতটি ভিন্ন ইভেন্ট নিয়ে কর্মসূচি শুরু হবে। এতে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা উপজেলা পর্যায় থেকে অংশগ্রহণ করবে। প্রতিমন্ত্রীর মতে, দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনা এবং ভবিষ্যতে শক্তিশালী জাতীয় দল গঠনের পথ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ক্রীড়া খাতের সংস্কার ও আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার খেলোয়াড়দের কল্যাণে কাজ করছে। ইতোমধ্যে ১২৯ জন জাতীয় ক্রীড়াবিদকে ভাতার আওতায় আনা হয়েছে এবং আগামী সাত দিনের মধ্যে আরও ৫০০ জন ক্রীড়াবিদকে এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
শিক্ষা ব্যবস্থায় ক্রীড়ার গুরুত্ব বাড়াতে নতুন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকেই ক্রীড়া বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মেধাবী খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ ক্রীড়া বৃত্তির ব্যবস্থা থাকবে, যাতে তারা পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগ দিতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ তৈরি হলে তরুণ প্রজন্ম মাঠমুখী হবে এবং এর মাধ্যমে একটি সুস্থ, সবল ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এর আগে দুপুর ১টায় তিনি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেন এবং সেখানে প্রশিক্ষণরত ক্ষুদে ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের উৎসাহ দেন।
পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী (Abdul Qayyum Chowdhury), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (Bangladesh Cricket Board)-এর পরিচালক রাহাত শামস, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, বাংলাদেশ দলের সাবেক অধিনায়ক রাজিন সালেহ (Rajin Saleh) এবং বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ রেজাউল করিম নাচনসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।


