জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সপ্তাহে একদিন অনলাইন ক্লাস, রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ হবে দোকানপাট

বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে বাংলাদেশ (Bangladesh)-এ। এই প্রেক্ষাপটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে নতুন সময়সূচি নির্ধারণের পথে এগোচ্ছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে অন্তত এক দিন ক্লাস অনলাইনে নেওয়া হবে এবং দোকানপাট ও শপিংমল রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে রাত সাড়ে ৮টায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে, এদিনই এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে জনপ্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

বর্তমানে দেশের দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও শপিংমল সাধারণত রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত খোলা থাকে এবং সকাল ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে খোলে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী সময়সূচি পরিবর্তন করে সকাল ৯টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হলে বন্ধের সময় সন্ধ্যা ৭টায় নামিয়ে আনার কথাও বিবেচনায় রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, যেমন মিসর (Egypt), ইতোমধ্যেই এমন সীমিত সময়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেছে।

শিক্ষা খাতেও একই ধরনের পরিবর্তনের আলোচনা চলছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন (A N M Ehsanul Haque Milon) জানান, সশরীরে ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।

পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, শিক্ষা বোর্ড এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সেখানে সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেওয়ার একটি প্রস্তাব ওঠে, যার মধ্যে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীরে ক্লাস চালুর ধারণা দেওয়া হয়। এছাড়া জোড়-বিজোড় দিনের ভিত্তিতে ক্লাস পরিচালনার একটি কাঠামোও আলোচনায় আসে, যেখানে শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকেই পাঠদান করবেন।

তবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত সপ্তাহে এক দিন অনলাইন ক্লাস চালুর প্রস্তাবই গুরুত্ব পাচ্ছে। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত হয়েছে, স্কুল-কলেজে আংশিক অনলাইন চালু হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা সশরীরেই অনুষ্ঠিত হবে।

এর আগে গত ১৫ মার্চ বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (Anindya Islam Amit)-এর সভাপতিত্বে জ্বালানি সাশ্রয় নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি এবং ঢাকা মহানগরের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার শর্তে ব্যবসায়ীরা ৪০ শতাংশ আলোকসজ্জা কমানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

উল্লেখ্য, পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দীর্ঘ প্রায় ৪০ দিনের ছুটির পর গত রোববার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় চালু হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্রতর হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে শিক্ষা ও বাণিজ্য খাতে এই পরিবর্তনগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *