ইরান যুদ্ধে ‘লক্ষ্য পূরণের পথে’—জাতির উদ্দেশে ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) দাবি করেছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তার মূল কৌশলগত লক্ষ্যগুলোর খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, “আমি আনন্দের সঙ্গে বলতে পারি, আমরা আমেরিকার সব সামরিক লক্ষ্য খুব শিগগির পূরণ করার পথে রয়েছি।”

তবে ইরানে চলমান এই সামরিক অভিযানের নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি ট্রাম্প। সাম্প্রতিক মন্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুদ্ধের সমাপ্তি খুব দ্রুতই ঘটতে পারে। তাঁর ভাষায়, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশটির অধিকাংশ শীর্ষ নেতা আর বেঁচে নেই। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ও ড্রোন হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

মিত্রদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, বিশেষ করে ইসরায়েল (Israel) এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে। “আমরা কোনোভাবেই তাদের ব্যর্থ হতে দেব না,”—জোর দিয়ে বলেন তিনি।

ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, দেশটি বহু দেশের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং এ থেকেই স্পষ্ট যে তাদের কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র থাকা উচিত নয়। তাঁর ভাষায়, “আমি তা হতে দেব না।”

ভাষণে নিকোলা মাদুরো (Nicolas Maduro)-কে দ্রুত আটক করতে পারার ঘটনাও তুলে ধরেন ট্রাম্প এবং এজন্য মার্কিন সেনাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি দাবি করেন, এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার সম্পর্ক ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল নয়। যেসব দেশ এখনো ওই অঞ্চলের তেলের ওপর নির্ভর করে, তাদের নিজেদের উদ্যোগে হরমুজ প্রণালি (Strait of Hormuz) খোলা রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।

নিজের পূর্ববর্তী পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রথম মেয়াদে তিনি ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি (Qasem Soleimani)-কে হ’\ত্যা অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। সোলাইমানিকে তিনি “রাস্তার ধারে পেতে রাখা বোমার হোতা” বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, তিনি বেঁচে থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত, যদিও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই জয়ী হতো।

যুক্তরাষ্ট্র ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থেই এই যুদ্ধ প্রয়োজন ছিল বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, ইরানের গত ৪৭ বছরের কর্মকাণ্ড ‘সন্ত্রাসী হামলা’ দ্বারা পরিপূর্ণ এবং দেশটির নেতৃত্বকে তিনি ‘ঠগ’ ও ‘খু’\নি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের আগে ইরানের বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নে হাজার হাজার মানুষ নি’\হত হয়েছে।

ট্রাম্পের ভাষায়, এই সামরিক পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ‘সফল বিনিয়োগ’। তিনি দাবি করেন, মার্কিন নাগরিকরা এখন আর ইরানের হামলার হুমকিতে নেই এবং দেশটি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি নিরাপদ, শক্তিশালী ও উন্নত হয়ে উঠবে।

প্রায় ১৯ মিনিটের এই ভাষণের মাধ্যমে তিনি তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেন এবং ইরান যুদ্ধের যৌক্তিকতা তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *