ইরান যুদ্ধের বাড়তি খরচে চাপে যুক্তরাষ্ট্র: প্রতিদিন ৩ ডলার যাচ্ছে একজন মার্কিন নাগরিকের পকেট থেকে

ইরানকে ঘিরে চলমান যু’\দ্ধ ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র এক মাসের মধ্যেই এই সংঘাতে ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৪৫ বিলিয়ন ডলার, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে সাধারণ মানুষের জীবনে ও অর্থনীতিতে।

প্রথম ধাক্কা আসে যু’\দ্ধ শুরুর পরপরই। মাত্র ছয় দিনের মাথায় পেন্টাগন জানায়, তাদের ব্যয় ইতোমধ্যে ১১.৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। নতুন হিসাব অনুযায়ী, এক মাসে এই ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এর অর্থ দাঁড়ায়, গড়ে প্রতিদিন একজন মার্কিন নাগরিকের ওপর অতিরিক্ত ২.৫ থেকে ৩.৮ ডলারের চাপ পড়ছে—যার মধ্যম মান প্রায় ৩ ডলার।

সরাসরি সামরিক ব্যয়ই সবচেয়ে বড় চাপ

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বড় ব্যয় হচ্ছে সরাসরি সামরিক খাতে। বিমান হামলা, নৌবাহিনীর মোতায়েন, যুদ্ধজাহাজ পরিচালনা—সব মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে। প্রথম এক মাসেই এই খাতে ব্যয় ২৩ থেকে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

আধুনিক অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান ও সেনা মোতায়েনের মতো উচ্চমূল্যের উপকরণ এই ব্যয় দ্রুত বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যু’\দ্ধ যত দীর্ঘ হবে, এই খরচ তত দ্রুত বাড়বে।

জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক ধাক্কা

এই সংঘাতের সবচেয়ে দ্রুত প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে। যু’\দ্ধ শুরুর আগে যেখানে তেলের দাম ছিল ৭০–৮০ ডলারের মধ্যে, তা বেড়ে ১১০–১১৫ ডলারের ওপরে চলে গেছে।

এর পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকি, সরবরাহ অনিশ্চয়তা এবং বাজারে আতঙ্ক। এর ফলে জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবহন খরচ ও পণ্যের দামও বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর এক ধরনের ‘অদৃশ্য কর’ হিসেবে চাপ সৃষ্টি করছে।

মূল্যস্ফীতির বিস্তার

তেলের দাম বাড়া শুধু জ্বালানিতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না—এটি পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, পরিবহন খরচ বাড়ছে, এবং বাজারে নিত্যপণ্যের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চাপ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগে অদৃশ্য ক্ষতি

এই যু’\দ্ধের আরেকটি বড় প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে। ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদমূল্য হারিয়ে গেছে, অবসরভাতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে। এই ক্ষতিগুলো সরাসরি চোখে না পড়লেও দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

ঋণ ও সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই বিশাল ঋণের চাপের মধ্যে ছিল। এই যু’\দ্ধ সেই চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে সরকারি ঋণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, সুদের হার বাড়ছে এবং ঋণ ও মর্টগেজের খরচও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ব্যয়ের বোঝা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও বহন করতে হবে।

সব মিলিয়ে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এই যু’\দ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *