ঢাকায় ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে কাকে পাঠানো হচ্ছে—এই প্রশ্ন ঘিরে কূটনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে। সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে এক পরিচিত রাজনৈতিক নাম। ভারতের প্রশাসন ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান ম্যান্ডারিনস (Indian Mandarins) সম্প্রতি জানিয়েছে, বাংলাদেশের জন্য ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে আরিফ মোহাম্মদ খানকে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এই নিয়োগ বাস্তবায়িত হলে তিনি বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা (Pranay Kumar Verma)-এর স্থলাভিষিক্ত হবেন। তবে বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
আরিফ মোহাম্মদ খান যদি ঢাকায় দায়িত্ব নেন, তাহলে সেটি শুধু বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রেই নয়, বরং বৃহত্তর ভারতীয় উপমহাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসেও একটি বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। এমনকি বিশ্ব কূটনীতিতেও এ ধরনের উদাহরণ খুবই সীমিত, যেখানে একজন সক্রিয় বা উচ্চপ্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদে বসানো হয়।
সংবাদমাধ্যমটি আরও উল্লেখ করেছে, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের পদে মূলত ক্যারিয়ার কূটনীতিকদেরই নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। সেই জায়গায় একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে পাঠানোর সম্ভাবনা ভারতের কূটনৈতিক কৌশলে একটি ব্যতিক্রমী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরিফ মোহাম্মদ খান প্রায় চার দশক আগে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ছিলেন। তাকে একসময় ভারতের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবেও ভাবা হয়েছিল। ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)-এর এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ২০২৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিহারের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিনি কেরালার গভর্নর ছিলেন। এছাড়াও তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন এবং বেসামরিক বিমান চলাচলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন একজন হাইপ্রোফাইল রাজনীতিককে ঢাকায় পাঠানোর চিন্তা নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি ভারতের কূটনৈতিক অগ্রাধিকার ও কৌশলের একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করছে। বাংলাদেশ (Bangladesh) ও ভারত (India)-এর সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ ও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য দিল্লি হয়তো অভিজ্ঞ ও রাজনৈতিকভাবে দক্ষ কাউকে বেছে নিতে চাইছে।
তবে সব জল্পনার মাঝেও এখন পর্যন্ত ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি, ফলে বিষয়টি এখনো কূটনৈতিক মহলে আলোচনার স্তরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।


