বিশ্ব ইলিশ উৎপাদনের সিংহভাগই বাংলাদেশে—সংরক্ষণে নতুন করে জোর দেওয়ার আহ্বান

বিশ্বে মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বাংলাদেশে হয়ে থাকে—এমন তথ্য তুলে ধরে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (Sultan Salauddin Tuku)।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (Bangladesh Agricultural Research Council)-এর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ইলিশ গবেষণা: অর্জিত সাফল্য, জাটকা সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইলিশ কেবল একটি মাছ নয়, এটি বাংলাদেশের একটি ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বিশ্বের বাজারে এর বিশেষ চাহিদা রয়েছে, আর সেই চাহিদার বড় অংশই পূরণ করছে বাংলাদেশ। ফলে এই সম্পদ সংরক্ষণে অবহেলার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, জাটকা ধরা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা গেলে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর প্রভাব সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে পড়বে এবং জাতীয় সমৃদ্ধিতে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

জেলেদের সহায়তার বিষয়টিও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, গত দুই মাসে ৪০ হাজার জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা প্রদান শুরু হয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে ৮০ কেজি চাল, ১২ কেজি আটা, ১০ লিটার তেল, ৪ কেজি চিনি, ৮ কেজি ডাল এবং ১৬ কেজি আলু দেওয়া হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ছয় হাজার টাকা। অতীতে এত বড় পরিসরে সহায়তা দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

এ সময় তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যদের জেলেদের পাশে থাকার কথাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকা এবং আইন মেনে চলার বিষয়ে জেলেদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (Bangladesh Fisheries Research Institute)-এর মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র।

গেস্ট অব অনার হিসেবে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। এছাড়াও বক্তব্য দেন মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. জিয়া হায়দার চৌধুরী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (Sher-e-Bangla Agricultural University)-এর ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. কাজী আহসান হাবীব এবং মৎস্য অধিদফতরের পরিচালক ড. মো. মোতালেব হোসেন।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম, যেখানে ইলিশ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরা হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *