বগুড়া-৬ উপনির্বাচন ও শেরপুর-৩ এ ভোট শুরু, চলছে সারাদিনের ভোটযুদ্ধ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ আসনে উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ভোটারদের উপস্থিতিতে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সেই নির্বাচনে তারেক রহমান (Tarique Rahman), যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (BNP)-এর চেয়ারম্যান, দুটি আসনে বিজয়ী হন। পরবর্তীতে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয় এবং বর্তমানে সেই শূন্য আসনে ভোটগ্রহণ চলছে।

অন্যদিকে, শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে স্থগিত করা হয়েছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় এখন সেখানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সংসদ নির্বাচনের সময় ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ফলাফল আসায় এই আসনে আলাদা গণভোট আয়োজনের প্রয়োজন হয়নি।

বগুড়া-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনজন প্রার্থী। তারা হলেন— বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা, জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami)-এর মো. আবিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (BDP)-এর মো. আল-আমিন তালুকদার। এ আসনে মোট ১৫০টি ভোটকেন্দ্র ও ৮৩৫টি ভোটকক্ষ রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৯ জন।

শেরপুর-৩ আসনেও লড়াই করছেন তিনজন প্রার্থী। তারা হলেন— বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাসদ (মার্কসবাদী) (BASD Marxist)-এর মো. মিজানুর রহমান। এ আসনে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১২৮টি এবং ভোটকক্ষ ৭৫১টি। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯ হাজার ৮০৬ জন।

নির্বাচন কমিশন (Election Commission)-এর নির্বাচন পরিচালনা শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন জানিয়েছেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে গুরুত্ব বিবেচনায় ১৮ থেকে ২০ জন নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি ৩৬ জন নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।

দুই আসনেই ডাকযোগে ভোট বা পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনায় ইসির নিজস্ব কর্মকর্তারা রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে রয়েছেন। প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং এবং পোলিং অফিসার মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার নির্বাচন কর্মকর্তা সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইসির নিজস্ব ১৮ জন পর্যবেক্ষকের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে চার শতাধিক পর্যবেক্ষক মাঠে থেকে পুরো প্রক্রিয়াটি নজরদারিতে রেখেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *