জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং অংশগ্রহণকারী যোদ্ধাদের কল্যাণ, পুনর্বাসন এবং তাদের অবদানের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে বহুল আলোচিত একটি অধ্যাদেশ বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান (Ahmed Azam Khan)।
মন্ত্রী তাঁর প্রস্তাবে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং যারা সরাসরি অংশ নিয়ে আন্দোলনকে সফল করেছেন, তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেই দায়বদ্ধতা থেকেই শহীদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনের বিষয়টি একটি কাঠামোর মধ্যে আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, এই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, মূল্যবোধ এবং ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে সুপ্রতিষ্ঠিত করাই এই বিলের অন্যতম লক্ষ্য।
এছাড়া তিনি বলেন, এই অধ্যাদেশ কেবল আর্থিক বা সামাজিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষণের বিষয়টিও বিলটির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বিলটি উত্থাপনের পর তা ভোটের জন্য দেন জাতীয় সংসদ (Bangladesh National Parliament)-এর ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (Barrister Kaiser Kamal)। এ সময় উপস্থিত সংসদ সদস্যরা সম্মিলিতভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে বিলটির পক্ষে সমর্থন জানান। ফলে কণ্ঠভোটেই এটি পাস হয়ে যায়।
এই বিল পাসের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবার ও যোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের একটি আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


