দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ কৃষির সাথে যুক্ত—কৃষক কার্ড বিতরণে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman) বলেছেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারেই অন্তত একজন সদস্য কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের ৪ কোটি পরিবারের কেউ না কেউ কৃষির সাথে সম্পর্কিত—এটাই আমাদের বাস্তবতা, এটাই আমাদের শক্তি।”

মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইল (Tangail) শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণ এবং প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে প্রথম পর্যায়ে ২২ হাজার কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনের আগে আমরা দেশের মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, আজ তার বাস্তবায়নের একটি ধাপ শুরু হলো। কৃষক কার্ড ছিল আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকারগুলোর একটি।” তিনি উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে ১২ লাখ কৃষক সুদসহ ১০ হাজার টাকার কৃষি ঋণ মওকুফের সুবিধা পেয়েছেন।

ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া (Begum Khaleda Zia) সরকারের সময় ৫ হাজার টাকা করে কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছিল। একইভাবে শহীদ জিয়াউর রহমান (Ziaur Rahman)-এর খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়ে এবং উৎপাদন দ্বিগুণ হয়—যা কৃষি খাতে একটি মাইলফলক হয়ে আছে।

তিনি আরও বলেন, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে।” বর্তমান সরকারের লক্ষ্য কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল ও স্বচ্ছল করে গড়ে তোলা বলেও জানান তিনি। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি ১০টি সুবিধা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ (Mohammad Aminur Rashid)-এর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতানা সালাউদ্দিন টুকু এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি সচিব রফিকুল ই মোহাম্মদ। এ ছাড়া একজন কৃষক ও একজন কৃষাণী তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ১৫ জন কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করেন এবং তাদের হাতে গাছের চারা তুলে দেন। একই সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আরও ৯টি উপজেলায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।

এ সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, সংসদ সদস্য, কৃষক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী শহরের পৌর উদ্যানে আয়োজিত কৃষি মেলার উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *