প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই সনদে সবার আগে সই করেছে বিএনপি। এ কারণে নির্বাচনের পর যারা এ ইস্যুতে সরব হয়েছে, তাদের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইল (Tangail)-এর মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (Mawlana Bhashani Science and Technology University)-এর মুক্তমঞ্চে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “প্রথমে সই করেছে বিএনপি। যারা নির্বাচনের পরে জুলাই সনদের জন্য গলা ফাটিয়ে ফেলল, তাদের তো আমরা প্রশ্ন করতেই পারি—এতই যদি দরদ থাকে, তাহলে প্রথমেই কেন সই করলে না?”
তিনি বলেন, দেশের জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে, আর দলটি জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করবে। তার ভাষায়, জুলাই সনদে বিএনপি সই করার পর অন্য দলগুলোও তাতে যুক্ত হয়েছে। কিন্তু যারা এখন বিরোধী দলে রয়েছে, তাদের শুরুতে এই সনদে সই করা নিয়ে দ্বিধা ছিল।
তারেক রহমান আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল তো তখন সই-ই করেনি। পরে নির্বাচনের পর তড়িঘড়ি করে তারা সনদে সই করেছে। এ ধরনের অবস্থান জনগণের কাছেও প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সতর্কবার্তাও দেন বিএনপি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, দেশে আবার কারা অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, কারা স্বৈরাচারী প্রবণতা ফিরিয়ে আনতে চায়—এসব বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।
সংস্কারের প্রশ্নে তারেক রহমান দাবি করেন, দেশের রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রস্তাব বিএনপিই প্রথম তোলে। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)-র নেতৃত্বে দলটি সংস্কারের রূপরেখা দেয়। পরে ২০২৩ সালে ৩১ দফা কর্মপরিকল্পনাও ঘোষণা করা হয়।
তার দাবি, পরবর্তীতে গঠিত সংস্কার কমিশনের বেশিরভাগ প্রস্তাবই বিএনপির আগের ধারণা ও প্রস্তাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। গণতান্ত্রিক চর্চা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে সেটির সমাধান হতে হবে আলোচনা, যুক্তি ও সংলাপের মাধ্যমে। এ পথেই সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব।


