ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ ১৬ বছরে সবচেয়ে বেশি হামলা-মামলা, গু’\ম-খু’\ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন (Mahdi Amin)।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দাবি তুলে ধরেন।
মাহদী আমিন তার বক্তব্যে বলেন, হেলমেট ও হাতুড়ি বাহিনীর মতো শক্তিকে উপেক্ষা করে, নিজ নামে ও পরিচয়ে বারবার ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে যে সংগঠন—তা হলো জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (Jatiyatabadi Chhatra Dal)। তার ভাষায়, এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে অনেককে হলে থাকতে দেওয়া হয়নি, কেউ পরীক্ষা দিতে পারেনি, আবার কেউ ক্লাসরুমে ঢোকার সুযোগও পায়নি।
তবুও সীমাহীন নিপীড়ন-নির্যাতনের মধ্য দিয়েও তারা নিজেদের পরিচয় অটুট রেখেছে—এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ছাত্রদলের ত্যাগ-সংগ্রাম, রক্ত ও অশ্রুর ইতিহাস এতটাই গভীর যে অন্য রাজনৈতিক দল ও তাদের অঙ্গসংগঠন মিলিয়েও সেই সংখ্যার কাছাকাছি পৌঁছানো কঠিন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদের সংখ্যার দিক থেকে একক সংগঠন হিসেবে সর্বাধিক ১৪২ জন শহীদ হয়েছেন, যারা ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। উত্তাল সেই সময়ের প্রথম দিন, ১৬ জুলাই ২০২৪-এ আবু সাঈদের সঙ্গে একই মুহূর্তে শহীদ হন ছাত্রদলের ওয়াসিম আকরাম।
এই প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের সাম্প্রতিক ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। তার দাবি, ‘গুপ্ত’ লেখাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির (Islami Chhatra Shibir) সেখানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটিয়েছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বর্তমানে গণতান্ত্রিক বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনা করছে, যার ফলে বাকস্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত দুই মাসের সরকারের কার্যক্রমই এর প্রমাণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তার মতে, এখন প্রত্যেক ছাত্র সংগঠন—ছাত্রশিবিরসহ—নিজস্ব পরিচয়ে প্রকাশ্যে রাজনীতি করবে, সেটিই কাম্য। অতীতে গোপনে ছাত্রলীগের ভেতরে বিস্তার লাভ করা এবং এখনো ভিন্ন পরিচয়ে সক্রিয় থাকার অভিযোগকে তিনি সুস্থ ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক চর্চার পরিপন্থি হিসেবে আখ্যা দেন।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা হলো—সহিংসতা ও সংঘর্ষের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বিরোধী দল ও তাদের ছাত্র সংগঠনগুলো যেন গুপ্ত সংস্কৃতি পরিহার করে প্রকাশ্য, ইতিবাচক ও গঠনমূলক রাজনীতির পথে অগ্রসর হয়।


