আগামীকাল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী এক আনুষ্ঠানিক বাণীতে দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আপনাদের মাধ্যমে বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেখানেই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা অবস্থান করছেন, তাদের প্রত্যেককে জানাই আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা।”
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে বিশ্বধর্মগুলোর মৌলিক দর্শনের প্রতি আলোকপাত করে বলেন, পৃথিবীতে বহু ধর্ম বিদ্যমান এবং প্রতিটি ধর্মেরই রয়েছে অসংখ্য অনুসারী। প্রতিটি ধর্মই মানবকল্যাণের পথ নির্দেশ করে এবং সুনির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা অনুসরণের আহ্বান জানায়। বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান ধর্মগুরু গৌতম বুদ্ধ (Gautama Buddha) তাঁর অনুসারীদের জন্য যে পঞ্চশীল নীতি প্রদান করেছিলেন, তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। এই নীতির মধ্যে রয়েছে—প্রাণী হ’\ত্যা থেকে বিরত থাকা, চুরি না করা, ব্যভিচার পরিহার, মিথ্যা না বলা এবং মাদক থেকে দূরে থাকা।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রেম, অহিংসা এবং সকল জীবের প্রতি দয়া বৌদ্ধ ধর্মের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা। এই শিক্ষাগুলো কেবল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য নয়, বরং মানবজাতির সার্বিক কল্যাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় আইন-কানুনের পাশাপাশি যদি প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ ধর্মীয় বিধান যথাযথভাবে পালন করেন, তাহলে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি নাগরিক যেন নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি-নীতি ও অধিকার নির্বিঘ্নে পালন করতে পারে, তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ধর্ম, বর্ণ বা রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে সকল মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমান সরকার ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে আগ্রহী নয়। “ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার”—এই নীতিতে সরকার বিশ্বাসী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে—এটাই সরকারের দৃঢ় অবস্থান।
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ (Bangladesh) সকল নাগরিকের। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবাই সম্মিলিতভাবে আত্মত্যাগের মাধ্যমে এই দেশ স্বাধীন করেছেন। তাই ধর্ম বা বর্ণভেদে নয়, বরং সমান অধিকারের ভিত্তিতে সবাই এই রাষ্ট্রের অংশীদার।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সরকারের রাজনৈতিক দর্শনের কথাও তুলে ধরেন, যেখানে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ দেশের সকল ধর্ম, বর্ণ ও নৃগোষ্ঠীর সহাবস্থানকে গুরুত্ব দেয়। তিনি বলেন, কেউ যেন নিজেকে সংখ্যালঘু মনে না করেন—রাষ্ট্রের কাছে সকল নাগরিকই সমান মর্যাদার অধিকারী।
সবশেষে তিনি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের আবারও বুদ্ধ পূর্ণিমার শুভেচ্ছা জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, এই পবিত্র দিনটি সবার জীবনে বয়ে আনবে শান্তি, আনন্দ এবং গভীর তাৎপর্য।


