আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ (Salahuddin Ahmed)। তিনি বলেন, গত দেড় দশকে লুটপাটের যে চিত্র তৈরি হয়েছে, তা এখন শ্বেতপত্রে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার করে পাচার হয়েছে, যা দিয়ে একাধিক পদ্মা সেতু কিংবা মেট্রোরেল নির্মাণ করা যেত।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ (National Parliament)-এ রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ (Awami League) সরকারের আমলে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এই বিপুল অর্থ দিয়ে ২৪টি পদ্মা সেতু অথবা ১৪টি মেট্রোরেল নির্মাণ সম্ভব ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি আহ্বান জানান, কে বড় মুক্তিযোদ্ধা—এই বিতর্কে না গিয়ে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
ব্যাংক দখলের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগে গোয়েন্দা সংস্থার ভয় দেখিয়ে ব্যাংক দখল করা হতো, এখন আবার ধর্মীয় স্লোগান ব্যবহার করে দখলের ঘটনা ঘটছে। তার মতে, পদ্ধতি বদলালেও লুণ্ঠনের প্রবণতা বন্ধ হয়নি, যা দেশের অর্থনীতির জন্য মারাত্মক।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সংস্কারের অজুহাতে নির্বাচন বিলম্বিত করার কোনো অপচেষ্টা বিএনপি (BNP) মেনে নেবে না। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংবিধানের বিতর্কিত তফসিল এবং শেখ মুজিবুর রহমান (Sheikh Mujibur Rahman)-সংক্রান্ত কিছু বিধান এখনো কেন বহাল রয়েছে। তার মতে, জুলাই জাতীয় সনদের বাইরে কোনো অসাংবিধানিক প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছানো হয়েছে। এই ইতিহাসকে ছোট করে দেখা উচিত নয়। অতীতে দরিদ্রদের অধিকার যেভাবে লুণ্ঠিত হয়েছে এবং অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে, তা ভুলে গিয়ে শুধুমাত্র ‘চেতনার রাজনীতি’ করলে দেশ এগোবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাক স্বাধীনতার অপব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে স্বাধীনতার কথা থাকলেও তা সীমাহীন নয়। দেশ-বিদেশে বসে কুরুচিপূর্ণ ভাষায় কুৎসা রটানোর ফলে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ঘিরে ‘রাজনৈতিক ব্যবসা’ নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, কিছু দল এই চেতনাকে ব্যবহার করে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করছে, যা দায়িত্বশীল রাজনীতির প্রতিফলন নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি এনসিপি (NCP)-র অবস্থানেরও সমালোচনা করেন এবং বলেন, জুলাইয়ের চেতনা কোনো একক দলের সম্পত্তি নয়—এটি দেশের সব মানুষের ত্যাগের ফসল।


