দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের ইতি টেনে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতার মসনদে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। টানা ১৫ বছর রাজ্য শাসনের পর তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পথে এগোচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে ‘পদ্মফুল’ ফুটতে শুরু করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা।
এই জয়কে ‘চিরস্মরণীয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)। সোমবার (৪ মে) নিজের সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। জনগণের শক্তির জয় হয়েছে, সুশাসনের রাজনীতি জয়ী হয়েছে।”
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ এক বড় মোড়। ১৯৭৭ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত টানা ৩৪ বছর ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট সরকার, যার নেতৃত্বে ছিলেন জ্যোতি বসু (Jyoti Basu) ও পরবর্তীতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (Buddhadeb Bhattacharjee)। সেই দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস।
এবার সেই তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনকেও চ্যালেঞ্জ জানিয়ে এগিয়ে গেছে বিজেপি। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ১৯৮টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেস লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ৮৯টি আসনে।
নরেন্দ্র মোদি তার বার্তায় পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা বিজেপিকে বিপুল সমর্থন দিয়েছেন এবং দল জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে। তিনি আশ্বাস দেন, এমন একটি সরকার গঠন করা হবে যা সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য সমান সুযোগ ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।
নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে রাজ্যজুড়ে বাড়ছে উত্তেজনা। সংখ্যাগরিষ্ঠতার ‘ম্যাজিক ফিগার’ অতিক্রমের পথে থাকায় বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, ভারতের সামগ্রিক রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।


