স্থানীয় সরকার নির্বাচন এককভাবে করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party – NCP)। দলটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মূল লক্ষ্য দল গোছানো এবং তৃণমূল পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি যাচাই করা। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনের ভেতরের আলোচনা বলছে, এই ঘোষণার আড়ালে হিসাবটা আরও জটিল।
দলীয় সূত্রে আভাস মিলছে, শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি একা থাকবে না। বরং জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami)-এর সঙ্গে জোটবদ্ধভাবেই নির্বাচনে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। একক নির্বাচনের ঘোষণা তাই আপাতত সাংগঠনিক অবস্থান জানান দেওয়ার কৌশল হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দলটির নীতি নির্ধারকরা জামায়াতের সাথে জোটবদ্ধ নির্বাচনের পক্ষেই ঝুকে আছেন বলে জানা গেছে। দলের ভাঙ্গন ঠেকাতেই তাদের এমন একক নির্বাচনের ঘোষণা – এমনটাই জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের নীতি নির্ধারকদের একজন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ের লড়াই নয়; এটি তৃণমূলের শক্তি, ভোটব্যাংক এবং ভবিষ্যৎ জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ বোঝারও বড় মঞ্চ। সে কারণে এনসিপি একদিকে নিজস্ব অবস্থান মজবুত করার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে সম্ভাব্য জোটের দরজাও খোলা রাখছে।
জামায়াতের সঙ্গে বোঝাপড়া করে স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী সমন্বয়, ভোট ভাগাভাগি এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে এনসিপি নতুন সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি রাজনৈতিক গুঞ্জন হিসেবেই থাকছে।
সব মিলিয়ে, এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে জোট রাজনীতির হিসাব এখনো শেষ হয়নি। বরং ভেতরের সমীকরণ বলছে, শেষ মুহূর্তে জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার পথেই হাটবে দলটি।


