সঠিক নির্বাচনের জন্য জনগণ অপেক্ষায়, অংশ না নিলেও নির্বাচন হবে: লুৎফুজ্জামান বাবর

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর (Lutfozzaman Babar) বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনমুখী এবং জনগণ একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আপনারা যদি নির্বাচনে না আসেন, কিছু যাবে আসবে না। নির্বাচন ইনশাল্লাহ হয়ে যাবে, আল্লাহর রহমতে হবে। আপনারা না এলেও, না হারালেও হারানোর পর্যায়ে চলে যাবেন।”

শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে নেত্রকোনার ঐতিহাসিক মোক্তারপাড়া মাঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি (BNP) নেত্রকোনা জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন-২০২৫ এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

বাবর বলেন, নির্বাচনের তারিখ ও রোডম্যাপ ঘোষণার পরও একটি মহল নির্বাচন বানচালের জন্য নানা অজুহাত দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। তিনি যোগ করেন, “যারা এ ধরনের কুকর্মে লিপ্ত, বাংলাদেশের জনগণ কিন্তু তা মানবে না।” একইসঙ্গে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য।

নিজের নির্যাতিত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বাবর বলেন, “আমি নির্যাতিত—এ কথা অনেকেই বলে। তবে আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া (Begum Khaleda Zia) এবং তার পরিবার আমার থেকেও অনেক বেশি নির্যাতিত।” তিনি উল্লেখ করেন, খালেদা জিয়া কোনো কারণ ছাড়াই মিথ্যা মামলায় আট বছর কারাবন্দি ছিলেন। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো নির্যাতন-নিপীড়নের ফলে মৃত্যুবরণ করেন, আর বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রায় ১৮ বছর ধরে নির্বাসিত জীবনে আছেন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, খালেদা জিয়াকে তার নিজের বাড়ি থেকেও উচ্ছেদ করা হয়েছিল। এ সময় তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “উনার চেয়ে নির্যাতিত কেউ কি এই দেশে আছেন? আমরা সবাই নেত্রীর জন্য দোয়া করি।”

সম্মেলন প্রসঙ্গে বাবর বলেন, “আজকের এই সম্মেলনে আপনারা এমন একজন ব্যক্তিত্বকে নির্বাচিত করবেন, যিনি ত্যাগী, পরিশ্রমী এবং দলের জন্য নিবেদিত। এমন পরীক্ষিত নেতৃত্বই ভবিষ্যতে আমাদের দলকে এগিয়ে নিতে পারবে।”

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল (Habib-un-Nabi Khan Sohel)। প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শরীফুল আলম। সভাপতিত্ব করেন নেত্রকোনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক এবং সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য সৈয়দ আলমগীর এবং জাতীয় নির্বাহী কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

জানা গেছে, জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট পাঁচজন প্রার্থী। জেলার ১০টি উপজেলা থেকে ১ হাজার ৫১৫ জন কাউন্সিলর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব বেছে নেবেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *