গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর (Nurul Haq Nur)-এর ওপর হামলার প্রতিবাদে তিন দফা দাবি জানিয়েছে দলটি। শনিবার বিকালে রাজধানীর বিজয়নগরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে দলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান এসব দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হলো—বিগত বছরগুলোতে আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে কার্যকরী ভূমিকা রাখা জাতীয় পার্টিকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষিদ্ধ করা। এর পাশাপাশি আরও দুটি দাবি হলো: শনিবারের মধ্যেই নুরের ওপর হামলার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা এবং এ ঘটনার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ।
সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন দলের উচ্চতর পরিষদ সদস্য মাহফুজুর রহমান। সমাবেশে অন্য নেতারাও বক্তব্য দেন এবং সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।
এদিকে শনিবার সন্ধ্যায় নুরকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর নায়েবে আমীর ডা. মোহাম্মদ তাহেরের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। তারা নুরের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন।
হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের ডা. তাহের বলেন, “নুরের ওপর হামলার পেছনে কোনো দুরভিসন্ধি আছে কিনা তা তদন্ত করে সরকারেরই উদঘাটন করা উচিত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা আমাদের আগের সরকারের দমননীতির কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। নুরকে চিনে আক্রমণ করা হয়েছে, এর পেছনে ষড়যন্ত্র ছিল।”
তিনি আরও বলেন, হামলার মদদদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। “গণঅধিকার পরিষদ যে দাবি জানিয়েছে—আওয়ামী লীগের সহযোগীদের নিষিদ্ধ করার বিষয়ে—আমরা সেই দাবির সঙ্গে একমত,” যোগ করেন তিনি।
ভারতের ভূমিকা প্রসঙ্গে ডা. তাহের বলেন, “আমরা অতীতে ভারতের দালালদের যেভাবে মোকাবিলা করেছি, এখন যদি সেটি করতে হয় তাহলে এ সরকারকে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে।” তিনি আহত নুরকে বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থারও আহ্বান জানান। পাশাপাশি জানান, এ ঘটনার পর জামায়াত নিজেদের কর্মসূচি ঘোষণা করবে।