গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূর (Nurul Haque Nur)-এর স্ত্রী মারিয়া নূর রোববার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে সাংবাদিকদের সামনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, স্বামীর বর্তমান শারীরিক অবস্থার জন্য তিনি গভীরভাবে শঙ্কিত। একই সঙ্গে উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে নূরকে দ্রুত দেশের বাইরে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মারিয়া বলেন, “আমার জীবনটা সম্পূর্ণ আলাদা। তারপরও আজ মিডিয়ার সামনে আসতে বাধ্য হলাম। ৩০ তারিখ ঘটনাটি ঘটার সময় আমি লাইভ দেখছিলাম। কখনো ভাবতেও পারিনি এমন কিছু ঘটতে পারে। আমি একেবারে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম, ভাষাহীন।”
তিনি ক্ষোভের সঙ্গে উল্লেখ করেন, গত আট বছরে ফ্যাসিস্ট আমলেও নূরের ওপর এমন নৃশংস হামলার নজির নেই। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগ-যুবলীগ হামলা চালিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রশাসনের সময়ে এসে এ ধরনের ভয়ঙ্কর হামলা হবে, তা তাঁর কাছে ছিল অকল্পনীয়।
স্ত্রীর ভাষায়, নূরের শরীরে একাধিক গুরুতর আঘাত রয়েছে। ব্রেন, নাক, চোয়াল ও মেরুদণ্ডে আঘাত লেগেছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ৩৬ ঘণ্টা অবজারভেশনের পর কিছু বলা সম্ভব হবে। যদিও নূরের জ্ঞান ফিরেছে, তবুও তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল নয়। চিকিৎসকদের মতে, অন্তত ৭২ ঘণ্টা না গেলে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাবে না। অর্থাৎ তিনি এখনো আশঙ্কামুক্ত নন।
মারিয়া আরও বলেন, “এই শঙ্কার মধ্যে মিডিয়ার সামনে আসা সহজ নয়। কিন্তু ওর অবস্থা জানাতে এসেছি। আমি দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া চাইছি। অনুরোধ করছি, যেন ওকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত বিদেশে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।”