ভাসুরের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণের মামলা দায়ের করে হয়রানির অভিযোগে ফেনীতে স্বামী শহীদুল্লাহ ও তার স্ত্রী নাজমা আক্তারকে ৩ বছর ৬ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকালে ফেনী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক এ.এন.এম. মোরশেদ খান এ রায় ঘোষণা করেন।
এ মামলায় রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন পিপি শাহাবুদ্দিন আহমেদ, মাসুদুর রহমান, খালেদ মো. আরিফ ও আহসান কবির বেঙ্গল। আসামিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট শাহ মোহাম্মদ কায়কোবাদ।
রাষ্ট্র ও বাদীপক্ষের আইনজীবী পিপি শাহাবুদ্দিন আহমেদ জানান, ২০২২ সালের ২৩ মে নাজমা আক্তার আবদুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি দাবি করেন, ধর্ষণের ফলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়েছেন। আদালতের নির্দেশে পিবিআই তদন্ত করে সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে অভিযোগের সত্যতা না পেয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
পরবর্তীতে নাজমা আক্তার ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল সিআইডিকে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। সিআইডি তদন্ত করেও অভিযোগের সত্যতা পায়নি। এরপর আবারও নারাজি দাখিল হলে আদালত সরাসরি ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেন।
ডিএনএ প্রতিবেদনে অভিযোগকৃত আসামির সঙ্গে নবজাতকের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। বরং নাজমা আক্তারের স্বামী শহীদুল্লাহর সঙ্গে শিশুটির ডিএনএ মিল পাওয়া যায়। বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল নারী ও শিশু মামলা নং কমপ্লেইন ১৪৫/২২ থেকে আবদুর রহমানকে অব্যাহতি দেন এবং মিথ্যা মামলা দায়েরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এরপর ভুক্তভোগী আবদুর রহমান বাদী হয়ে ২০১৪ সালের ২৭ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমান মামলায় (নং ১৭/৩০) রূপ নেয়। দীর্ঘ শুনানিতে বাদীপক্ষের দুইজন ও আসামিপক্ষের পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত মিথ্যা মামলা ও হয়রানির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭/৩০ ধারায় নাজমা আক্তার ও তার স্বামী শহীদুল্লাহকে দোষী সাব্যস্ত করেন। শিশু সন্তানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত গুরুদণ্ডের পরিবর্তে লঘুদণ্ড হিসেবে উভয়কে ৩ বছর ৬ মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন, তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়।


