গু’\ম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবার ও উত্তরাধিকার সুরক্ষায় বড় ধরনের আইন সংশোধন করেছে সরকার। ‘গু’\ম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংশোধনের মাধ্যমে নতুন এক অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যার পূর্ণ নাম ‘গু’\ম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ সংশোধনকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশ, ২০২৬’। মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে এটি জারি করা হয় এবং কার্যকর করা হয়েছে অবিলম্বে।
আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. রেজাউল করিম বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
৫ বছর গু’\ম থাকলে উত্তরাধিকার নির্ধারণে ট্রাইব্যুনালের আদেশ
সংশোধিত আইনের ২৩ ধারায় বলা হয়েছে, ‘দ্য এভিডিয়েন্স অ্যাক্ট, ১৮৭২’-এর ১০৮ ধারায় ৭ বছর নিখোঁজ থাকার যে শর্ত আছে, তা সত্ত্বেও এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী কেউ যদি ৫ বছর গু’\ম থাকে এবং জীবিত ফিরে না আসে, তাহলে তার বৈধ উত্তরাধিকারীরা ট্রাইব্যুনালে সম্পত্তি বণ্টনের আবেদন করতে পারবেন।
ট্রাইব্যুনাল সত্যতা যাচাই করে সম্পত্তি বণ্টনের আদেশ দিতে পারবে। তবে এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রবিধান প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত, আবেদনের পদ্ধতি ট্রাইব্যুনাল নিজেই নির্ধারণ করবে।
মামলা পরিচালনায় পিপি নিয়োগ ও ব্যক্তিগত আইনজীবীর সুযোগ
নতুন অধ্যাদেশের ১৩ ধারার সংশোধনী অনুসারে, ট্রাইব্যুনালে অভিযোগকারীর পক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য কমিশনের সুপারিশে সরকার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) নিয়োগ দেবে। তবে কমিশন অনুপস্থিত থাকলে বা জরুরি প্রয়োজন হলে সরকার নিজেও পিপি নিয়োগ করতে পারবে, কিংবা জেলা বা মহানগর পিপিদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিতে পারবে।
এছাড়া ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা চাইলে ব্যক্তিগত আইনজীবী নিয়োগের অধিকারও সংরক্ষিত থাকবে।
কমিশনের অনুমতি ছাড়াই মামলা দায়েরের সুযোগ
গু’\ম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী বা নির্ভরশীল সদস্যরা এখন থেকে কমিশনের পূর্বানুমতি ছাড়াই মামলা দায়ের ও আইনি কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন। তবে ট্রাইব্যুনাল চাইলে যাচাইয়ের প্রয়োজনে কমিশনের কাছে প্রতিবেদন চাইতে পারবে।
গু’\মের সংজ্ঞা ও কার্যকারিতা
সংশোধিত আইন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর গঠিত তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধান প্রতিবেদনে যারা গু’\ম হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন এবং ট্রাইব্যুনালের আদেশ প্রদানের আগ পর্যন্ত জীবিত ফিরে আসেননি, তারা এই আইনের অধীনে ‘গু’\ম হওয়া ব্যক্তি’ হিসেবে গণ্য হবেন।
তাদের ক্ষেত্রেই সম্পত্তি বণ্টন, মামলা পরিচালনা এবং পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি এই আইন ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’ এর অধীন দায়ের হওয়া মামলা সম্পর্কেও প্রযোজ্য হতে পারে।
আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি, যা দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত গু’\ম ইস্যুতে ভুক্তভোগী পরিবারের জন্য আইনি স্বীকৃতি ও সহায়তার পথ তৈরি করবে।


