কয়েকটি শর্ত পূরণ হলে গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনীতে যোগ দেবে বাংলাদেশ: প্রেস সচিব

ফিলিস্তিনের গাজায় স্থিতিশীলতা রক্ষায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে (ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স—আইএসএফ) বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। শফিকুল আলম বলেন, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে আসছে। একই সঙ্গে অবিলম্বে হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং গাজার ভূখণ্ড থেকে সব ইসরায়েলি বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ।

তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গৃহীত এক প্রস্তাবে গাজায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের কথা উল্লেখ করা হয়। ওই প্রস্তাবের পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদের সব মুসলিম দেশ ভোট দেয়। পাশাপাশি কয়েকটি আরব ও মুসলিম দেশ যৌথভাবে প্রস্তাবটি উত্থাপনে সক্রিয় ভূমিকা রাখে।

প্রেস সচিব বলেন, “জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আইএসএফ গঠনের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব আমরা স্বীকার করি। আমরা জেনেছি, বেশ কয়েকটি মুসলিম দেশ এই বাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী। বাংলাদেশও বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করছে।”

শফিকুল আলম বলেন, ‘জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা বাহিনীতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখা দেশগুলোর একটি হিসেবে এবং ফিলিস্তিনিদের দাবির প্রবল সমর্থক হিসেবে আমরা বেশ কয়েকটি বিষয় মেনে নেওয়া হলে আইএসএফে যোগ দিতে আগ্রহী।

এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে আইএসএফ অস্থায়ী হতে হবে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেটের অধীনে পরিচালিত হতে হবে; গাজায় একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকতে হবে; গাজা থেকে সব ইসরায়েলি সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে এবং গাজার দায়দায়িত্ব ফিলিস্তিনিদের কাছে হস্তান্তর করতে হবে।’

শফিকুল আলম পুনর্ব্যক্ত করেন, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে আল কুদস আল শরিফকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে বৈঠকে গাজায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক বাহিনীতে নীতিগতভাবে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *