ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে ফেনীতে বাঁধ নির্মাণ করা হবে: জামায়াত আমির

ফেনীতে জনগণের দুর্ভোগের কথা বলে ভারতকে ‘শ্রদ্ধা’ জানিয়ে শান্তিপূর্ণ ‘ডায়ালগ’-এর মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে চাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) আমির।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে ১১ দলীয় জোটের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “ফেনীতে যে বাঁধটির কারণে আপনাদের দুঃখ, সেই বাঁধ এখনো নির্মাণ হয়নি। আল্লাহ যদি আমাদের সুযোগ দেন, আমরা জানি পার্শ্ববর্তী আমাদের প্রতিবেশী দেশের সাথে একটু এ ব্যাপারে ব্যাপার-স্যাপার আছে। আমরা তাদেরকে শ্রদ্ধা করি। আশা করি তারাও আমাদেরকে শ্রদ্ধা করবে।” এরপর তিনি বলেন, “তাদের সাথে ফ্রুটফুল ডায়ালগের মাধ্যমে আমরা এর শান্তিপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করব ইনশাআল্লাহ।”

এই বক্তব্যে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে তাঁর ভারতের প্রতি ‘শ্রদ্ধা’-সূচক আহ্বান এবং ‘ফ্রুটফুল ডায়ালগ’-এর অজুহাত তুলে একপ্রকার ভারতকেই বাঁধ নির্মাণের অনুমোদনদাতা হিসেবে মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত।

জামায়াত আমির আরও বলেন, “সীমান্তের ওপার থেকে ধেয়ে আসা পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙে গোটা ফেনী জেলা সমুদ্রে পরিণত হয়েছিল।” তাঁর ভাষায়, তিনি “কোমর পানি ভেঙে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা” করেছিলেন এবং “চোখের পানি ফেলেছেন।” বাঁধটি এখনো নির্মিত না হওয়াকে তিনি দেশের “মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন” বলে উল্লেখ করলেও, প্রকৃত প্রতিকারমূলক বা স্বাধীন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের কথা বলেননি।

ফেনী নদী নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি স্মরণ করেন আবরার ফাহাদ (Abrar Fahad)-কে। বলেন, “এই ফেনী নদী নিয়ে দুটি কথা বলেছিল, এজন্য তাকে জীবন দিতে হয়েছে।” এসময় তিনি আবরারকে ফেনীবাসীর কাছে “রুহ” হিসেবে রেখে যাওয়ার কথাও বলেন।

জামায়াত প্রধান এ জনসভায় ফেনীর উন্নয়ন নিয়ে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেন। জানান, “১৮ কোটি মানুষের দেশে ৬৪টি জেলার কোনো জেলা মেডিকেল কলেজ থেকে বঞ্চিত হবে না।” ফেনীতেও সরকারি মেডিকেল কলেজ, বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

এদিন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ফেনী-১ আসনে অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিনের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং ফেনী-২ আসনে জহিরুল ইসলামের হাতে ঈগল প্রতীক তুলে দিয়ে বলেন, “আমরা যাদেরকে উপহার দিয়েছি, তাদেরকে কোনো দলের নয়, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপহার দিয়েছি।”

ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রথম ভোটটা দেবেন ‘হ্যাঁ’। হ্যাঁ মানেই আজাদী, না মানেই গোলামী।” দ্বিতীয় ভোট হবে “বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হেফাজতের পক্ষে।”

নারী অধিকার ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই সমান।” জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীদের ঘরবন্দি করে রাখার গুজব অস্বীকার করে বলেন, “আমরা মায়েদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা—দুটিই নিশ্চিত করব।” কওমি মাদ্রাসা প্রসঙ্গে বলেন, “কওমি মাদ্রাসা আমাদের কলিজা।”

নির্বাচনী সহিংসতা এড়াতে সবাইকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “শীতের দিনে মাথা গরম করলে চৈত্র মাসে কী করবেন?” পাশাপাশি মা-বোনদের গায়ে হাত না তোলার আহ্বান জানান তিনি।

শেষে ডা. শফিকুর রহমান ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে ফলাফল নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

তবে পুরো বক্তব্যজুড়ে নিজ দেশের নদী সমস্যা সমাধানে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অনুমতি ও শ্রদ্ধা চাওয়ার যে মনোভাব ফুটে ওঠে, তা অনেকের কাছে আত্মমর্যাদাহীন এবং দুর্বল রাজনৈতিক অবস্থান বলেই মনে হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *