জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ (Awami League) ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। দলটির বিরুদ্ধে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা এবং নির্বাচন কমিশনে তাদের নিবন্ধনও স্থগিত। ফলে, দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ সমর্থক ভোটারদের ভোট কোথায় যাবে—এই প্রশ্ন এখন নির্বাচনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রতিটা দল/জোট ভিন্ন ভিন্ন পন্থায় এই ভোট তাদের পক্ষে নেবার চেষ্টা চালিয়ে গেছে সেই ৫ই আগস্টের পর থেকেই।
PEPS রাউন্ড–৩ জরিপের তথ্য বলছে, আগের আওয়ামী লীগপন্থী ভোটারদের মধ্যে ৩২.৯ শতাংশ এখন বিএনপিকে (BNP) ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, ১৩.২ শতাংশ ভোটার বলেছেন তারা ভোট দিতে পারেন জামাআত-কে (Jamaat-e-Islami)। কিন্তু সবচেয়ে বড় অংশ—৪১.৩ শতাংশ—এখনও সিদ্ধান্তহীন রয়েছেন।
জরিপে আরও উঠে এসেছে, আগের রাউন্ডে যারা জামাআত বা এনসিপিকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছিলেন, তাদের একাংশ এখন মত বদলে বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন। পাশাপাশি, যে সব ভোটার আগে নির্দিষ্ট কোনো পক্ষের প্রতি পছন্দ দেখাননি, তারাও এখন বিএনপির প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
জরিপ অনুযায়ী, বিএনপির সম্ভাব্য ৫২.৮ শতাংশ ভোটের মধ্যে ২৬.৬ শতাংশ এসেছে আগে সিদ্ধান্তহীন বা অনির্ধারিত ভোটারদের কাছ থেকে। বিপরীতে, জামাআতের সম্ভাব্য ৩১ শতাংশ ভোটের মধ্যে ১৪.১ শতাংশ এসেছে একই উৎস থেকে। এ তথ্য স্পষ্ট করে দেয়, নতুন ভোটারের আস্থা আদায়ে বিএনপি তুলনামূলকভাবে সফল।
PEPS রাউন্ড–৩ আরও ইঙ্গিত দেয়, কিছু জামাআতপন্থী ভোটার তাদের ভোটের ব্যাপারে এখনো মুখ খোলেননি। এ বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, জামাআতের ভোটব্যাংকে অস্থিরতা তুলনামূলকভাবে বেশি এবং এ অস্থিরতা বিএনপির তুলনায় স্পষ্ট। বিশেষ করে এনসিপির সঙ্গে গড়া জোটের ফলে জামাআতের ভোট ব্যাংক থেকে বিএনপির দিকে ভোট সরছে।
জরিপের উপসংহারে বলা হয়, বিএনপি ৫২.৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে বলে যারা তাদের মত দিয়েছেন, তাদের ভাষ্যে জানা যায়। জামাআত ও তাদের জোট পেতে পারে ৩১ শতাংশ এবং ১৩.২ শতাংশ উত্তরদাতা এখনো নিশ্চিত নন তারা কাকে ভোট দেবেন।


