জামায়াত আমিরের ‘হ্যাকিং’ দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মাহদী আমিন, বললেন—এটা নারীবিদ্বেষের সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের এক্স (টুইটার) পোস্ট ঘিরে নারীদের প্রতি অবমাননাকর বক্তব্য এবং পরে সেই অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে বলে দাবি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি (BNP)–র নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, “প্রায় ৯ ঘণ্টা পর সমালোচনার মুখে রাত ১টার দিকে হ্যাকের দাবি কতটা যুক্তিযুক্ত, সেটাই এখন প্রশ্ন।”

রোববার দুপুরে গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

মাহদী আমিন বলেন, “একটি গুরুত্বপূর্ণ বা ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে তাৎক্ষণিকভাবে সবাইকে জানানোই দায়িত্বশীলতার কাজ। কিন্তু এখানে দেখা গেল, সমালোচনার পরই হঠাৎ করে হ্যাকের দাবি করা হয়েছে, যা মোটেও স্বাভাবিক নয়।”

তিনি জানান, জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে একটি পোস্টে নারীদের ঘরের বাইরে যাওয়াকে পতিতাবৃত্তির সঙ্গে তুলনা করা হয়। “এই বক্তব্য সভ্য সমাজে কল্পনাও করা যায় না,” বলেন মাহদী।

বিএনপির এই নেতা বলেন, “পোস্ট দেওয়ার পর প্রায় ১২ ঘণ্টা পর গভীর রাতে হাতিরঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এত দেরি কেন? এমনকি এই সময়ের মধ্যেই তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একাধিক পোস্ট এসেছে, যেখানে হ্যাকের বিষয়টি কোথাও বলা হয়নি।”

তিনি আরও বলেন, “এমনকি হ্যাকের ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার দাবি তোলা হয়—এটা কতটা বিশ্বাসযোগ্য, জনগণই তা বিবেচনা করবে।”

নারীর প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গিকে ‘নোংরা, জঘন্য ও মধ্যযুগীয়’ বলে আখ্যা দেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, “এটি শুধু একটি পোস্ট নয়, এটি গোটা সমাজব্যবস্থাকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার অপচেষ্টা। এটি প্রকাশ্য নারীবিদ্বেষ।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জামায়াতে ইসলামীর অতীত ইতিহাসও নারীবিরোধী মনোভাবেই পরিপূর্ণ। “তাদের একজন নেতা ঢাবির ছাত্রীদের উদ্দেশে অশালীন শব্দ ব্যবহার করেছিলেন, দলের প্রধান নারীকে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দিতে নারাজ, নারী সংসদ সদস্যদের ‘ট্রফি’ বলেও তাচ্ছিল্য করা হয়েছে,” বলেন মাহদী আমিন।

তিনি বলেন, “জামায়াতের সদস্যরা যখন অনলাইনে আমাদের নারী সদস্যদের আক্রমণ করে, তখন এটা বোঝা যায় যে তাদের রাজনীতিতে নারীর কোনো স্থান নেই। অথচ সেই নারীরাই তাদের হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন।”

মাহদী আমিন আরও বলেন, “এই দলে থাকার কারণে অনেক নারী নেত্রী রাজনীতি থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ জোটবদ্ধ রাজনীতিতে থেকেও অভিযোগ করেছেন, জামায়াতের কারণে তাদের নানা বাধা ও হেনস্তার মুখে পড়তে হয়েছে। এমনকি পোশাক নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ রুচিহীন ও লে’\ঙ্গি’\ক বিদ্বেষমূলক।”

তিনি বলেন, “আমাদের ছাত্রদলের নারী সদস্যরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। এগুলো পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছে, যার পেছনে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মদদ রয়েছে।”

নারীর সম্মান ও অধিকার রক্ষায় বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যে নারী শিক্ষক, ডাক্তার, পুলিশ, সাংবাদিক, খেলোয়াড় কিংবা প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে রাষ্ট্রে অবদান রাখছেন, তাদের সম্পর্কে জামায়াতের মনোভাব সরাসরি অপমানজনক।”

মাহদী আমিন বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নারীদের অবদান জাতি কখনো ভুলবে না। আজও আমাদের মা-বোনেরা রাজপথে, আন্দোলনে, স্লোগানে, প্রতিবাদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু সংকট এলে একটি দল আবারও নারীদের আঘাত করার পথ বেছে নেয়। আমরা জানি—সেই পথ শত্রুপক্ষের ছিল।”

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “মায়ের মতই দেশ, আর দেশের মায়েদের ওপর কোনো অন্যায়, নিপীড়ন কিংবা হে’\ন’\স্তা বরদাস্ত করব না—বিএনপি করবে না, বাংলাদেশ করবে না।”

মাহদী আমিন বলেন, “জামায়াত বলছে এবার তাদের পালা। আমরা বলছি, জনগণ ইতোমধ্যেই তাদের দেখা শুরু করেছে—কীভাবে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীকে অপমান করা হচ্ছে।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইয়াসীন আলী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *