জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে দায়িত্বশীল ও শান্তিপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর (Bangladesh Jamaat-e-Islami) আমির ড. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman)। শুক্রবার মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দলীয় কর্মী-সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং দীর্ঘ সময়ের ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা স্মরণ করেন।
তিনি বলেন, যারা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিরলস পরিশ্রম করেছেন, ভয়ভীতি ও হয়রানির মুখেও গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা অব্যাহত রেখেছেন—তাদের সাহস ও স্থিরতা দেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্ত ভিত দিয়েছে। এই সংগ্রাম শুধু ভোটের লড়াই ছিল না, বরং ছিল একটি বৃহত্তর গণতান্ত্রিক চর্চার অংশ—এমন ইঙ্গিতও দেন তিনি।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে হতাশা থাকাটা স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন ড. শফিকুর রহমান। তবে একই সঙ্গে তিনি পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ৭৭টি আসন লাভের মাধ্যমে দলটি জাতীয় সংসদে তাদের উপস্থিতি প্রায় চারগুণ বাড়িয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি একটি শক্তিশালী বিরোধী ব্লক গঠনের ভিত্তি তৈরি করেছে। এই অর্জনকে তিনি সামনের পথচলার নতুন সূচনা হিসেবে দেখার আহ্বান জানান।
রাজনীতির দীর্ঘ পথচলার উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party) মাত্র ৩০টি আসন পেয়েছিল। দীর্ঘ ১৮ বছর পর, ২০২৬ সালে তারা সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এই বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে ধৈর্য, সংগঠনশক্তি এবং জনগণের আস্থা অর্জনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই শেষ পর্যন্ত ফল বয়ে আনে।
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, জনগণের আস্থা অর্জন, ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহির আওতায় রাখা এবং ভবিষ্যতের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত থাকা—এই তিনটি বিষয়েই দল সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। নির্বাচনের রায়কে সম্মান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, তাদের আন্দোলন কখনও কেবল একটি নির্বাচনে সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং লক্ষ্য ছিল গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করা, নাগরিক অধিকার রক্ষা করা এবং একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা।
বার্তার শেষাংশে শান্তিপূর্ণ, নীতিনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল রাজনীতির প্রতি দলের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। তার বক্তব্যে ছিল হতাশার স্বীকারোক্তি, অর্জনের আত্মবিশ্বাস এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রতি দৃঢ় প্রত্যয়—যা আগামী দিনের বিরোধী রাজনীতির রূপরেখা স্পষ্ট করে দেয়।


