রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিজেদের অনুগত ব্যক্তিদের বসানো শুরু হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party–NCP)। দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া (Asif Mahmud Sajeeb Bhuiya) বলেছেন, এই পদক্ষেপ নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য ‘মারাত্মক হুমকি’ হয়ে উঠতে পারে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সাম্প্রতিক প্রশাসনিক নিয়োগ নিয়ে কড়া সমালোচনা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত ‘বিধি-বহির্ভূত’ এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার পরিপন্থী।
এনসিপি মুখপাত্রের ভাষ্য, প্রশাসক নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করেনি, অথচ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রে সময়সীমা উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। তার দাবি, এই দ্বৈত মানদণ্ড প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাদকবিরোধী অভিযানের নামে পুলিশের মাধ্যমে এক ধরনের ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম (Sarjis Alam) বলেন, জাতীয় নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিয়ে দলটি এখন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছে। তিনি জানান, এনসিপি ১১ দলের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আপাতত এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে কর্মপরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
দলের আরেক নেতা হান্নান মাসউদ (Hannan Masud) অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং সেই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগও তোলেন। তার বক্তব্য, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এনসিপির এই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party–BNP)-এর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


