সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ বি এম জাহিদ হোসেন (Dr. A B M Zahid Hossain) স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন—ফ্যামিলি কার্ড একটি ইউনিভার্সাল কার্ড, এখান থেকে কেউ বাদ পড়বেন না। তবে বিতরণের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত—এই তিন শ্রেণির নাগরিক।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। তার বক্তব্যে ছিল একদিকে আশ্বাস, অন্যদিকে সতর্কবার্তা।
মন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেবে সরকার। আগামী ১০ মার্চ দেশের ১৪টি জেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। এই কর্মসূচিকে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে সংশ্লিষ্ট মহল।
তবে এরই মধ্যে উদ্বেগজনক কিছু তথ্য সরকারের নজরে এসেছে। ডা. জাহিদ জানান, একটি মহল ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার নামে নিরীহ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে। তিনি একে সরাসরি প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “এই কার্ড সরকার সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেবে। কোনো টাকার প্রয়োজন নেই।” কেউ টাকা চাইলে তাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী বা স্থানীয় প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী চার বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সবার হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। উপকারভোগীদের সংগৃহীত সব তথ্য একটি নির্দিষ্ট সফটওয়্যারে সংরক্ষণ করা হবে। আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি থাকবে বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank)-এর তত্ত্বাবধানে। যে ব্যাংক থেকে গ্রাহক টাকা তুলতে চান, সেখান থেকেই তা উত্তোলনের সুযোগ থাকবে বলে জানান মন্ত্রী।
এদিকে রাজধানীর কড়াইল বস্তি (Korail Slum) এবং ময়মনসিংহ (Mymensingh)-এর কিছু এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে প্রতারণার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এমন কর্মকাণ্ড থেকে সতর্ক থাকার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
সরকারের ভাষ্য—এটি কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং একটি সর্বজনীন উদ্যোগ। তবে যারা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের মধ্যে আছেন, তারাই আগে পাবেন এই কার্ড—এটাই বর্তমান নীতিগত অবস্থান।


