ডিজিএফআই-এর নেতৃত্বে মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী: পেশাদারিত্ব ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় নতুন অধ্যায়

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই (Directorate General of Forces Intelligence))-এর নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী। সামরিক সূত্র ও তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায় বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়—বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন মেধাবী, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন ও অত্যন্ত চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সুপরিচিত। নিজ যোগ্যতা, কঠোর প্রশিক্ষণ ও ধারাবাহিক পেশাদারিত্বের মধ্য দিয়েই তিনি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষপদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।

সামরিক প্রশিক্ষণে অসামান্য অর্জন

মেজর জেনারেল কায়ছার রশীদ চৌধুরী ২৯তম বিএমএ লং কোর্সের দ্বিতীয় সেরা ক্যাডেট হিসেবে কমিশন লাভ করেন। বর্তমানে তিনি তাঁর কোর্সের প্রথম কর্মকর্তা। সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সামরিক প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ধাপে তিনি কখনও দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন না—নিজ দক্ষতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমেই প্রতিটি পর্যায়ে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। দেশ-বিদেশে নানা গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক সামরিক কোর্স সম্পন্ন করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য থেকে দুইবার অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন তিনি। এছাড়া তুরস্ক থেকে আর্টিলারি বেসিক কোর্স এবং পাকিস্তান থেকে গানারি স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করে আন্তর্জাতিক সামরিক পরিমণ্ডলেও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন।

কর্মজীবনে পেশাদারিত্বের ধারাবাহিকতা

দীর্ঘ সামরিক জীবনে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে। পার্বত্য চট্টগ্রামে আর্টিলারি ব্রিগেডের ব্রিগেড মেজর (বিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অপারেশনাল কার্যক্রমে তাঁর বিচক্ষণতা প্রশংসিত হয়। এছাড়া ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি)-এ তিন বছরেরও বেশি সময় প্রশিক্ষক (ডিরেক্টিং স্টাফ) এবং প্রধান প্রশিক্ষক (চিফ ইনস্ট্রাক্টর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্কুল অব আর্টিলারিতেও টানা তিন মেয়াদে প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি তাঁর পেশাদার দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। প্রশিক্ষণ, অপারেশন ও প্রশাসন—প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর কাজের ধরন ছিল সুসংগঠিত ও ফলপ্রসূ।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ়

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। ২০১৯ সালে তিনি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে (United Nations Headquarters) যোগ দেন। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ (Top TCC) হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করে। তাঁর পুরো কার্যকালজুড়ে বাংলাদেশ এই শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়। শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য নতুন ডেপ্লয়মেন্ট ও সুযোগ সৃষ্টিতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অক্লান্ত পরিশ্রম, কৌশলগত চিন্তাভাবনা ও মেধার কারণে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের সামরিক উপদেষ্টার (MILAD) আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন।

সহকর্মীদের চোখে একজন পথপ্রদর্শক

তাঁর এক সহকর্মী, যিনি একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা, স্মৃতিচারণ করে বলেন—বিএমএ-তে তাঁর ফার্স্ট টার্ম করপোরাল ছিলেন কায়ছার রশীদ চৌধুরী। সেই সময় থেকেই তাঁর হাত ধরে সেনাবাহিনীতে পথচলার সূচনা। বুট পরা থেকে শুরু করে জীবনের প্রথম স্যালুট—প্রাথমিক সামরিক শৃঙ্খলার প্রতিটি ধাপেই তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণার উৎস। সহকর্মীদের মতে, প্রশিক্ষণ, অপারেশন ও প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন দৃঢ়ভাবে।

ডিজিএফআই-এর মতো স্পর্শকাতর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সংস্থার নেতৃত্বে এমন অভিজ্ঞ ও মেধাবী কর্মকর্তার দায়িত্ব গ্রহণকে অনেকে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবনই প্রমাণ করে—মেধা, পেশাদারিত্ব ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার সমন্বয়েই তাঁকে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, তাঁর নেতৃত্বে সংস্থাটি আরও কার্যকর ও সুসংগঠিত ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *