তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন রেজাউল করিম বাদশা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হয়েছিলেন তারেক রহমান (Tarique Rahman)। পরবর্তীতে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী একটি আসন ছেড়ে দিতে হয় তাকে। তিনি বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করেন। সেই আসনেই উপনির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন রেজাউল করিম বাদশা, যিনি বর্তমানে বগুড়া জেলা বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party)-র সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দলীয় সিদ্ধান্তে রেজাউল করিম বাদশাকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, বগুড়া (সদর)-৬ আসনের এমপি প্রার্থী হিসেবে জেলা বিএনপির সম্মানিত সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ভাইকে বিএনপির গুলশান দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রদান করা হলো।”

এর আগে গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ (Akhtar Ahmed) স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৯ এপ্রিল এই দুই আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আগামী ২ মার্চ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। ঘোষিত তফসিল অনুসারে, রিটার্নিং অফিসার বা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে ২ মার্চ পর্যন্ত। ৫ মার্চ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করবেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা।

এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ৬ থেকে ১০ মার্চ পর্যন্ত এবং ১১ মার্চ আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ১৪ মার্চ। ১৫ মার্চ প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করবে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এরপর নির্ধারিত সময়ের প্রচারণা শেষে ৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

তফসিল অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরু হবে সকাল সাড়ে ৭টায় এবং চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত, বিরতিহীনভাবে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট গ্রহণ করা হবে।

অন্যদিকে শেরপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী এলাকা ১৪৫ শেরপুর-৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর বৈধভাবে মনোনীত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের মৃত্যুজনিত কারণে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ১৭ অনুচ্ছেদের ২ দফার বিধান অনুসারে নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। একই আদেশের ১১ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি শূন্য ঘোষিত নির্বাচনী এলাকা ৪১ বগুড়া-৬ আসন থেকেও একজন জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

শেরপুরের ক্ষেত্রে আরও বলা হয়েছে, পূর্বে ঘোষিত নির্বাচনী সময়সূচির পর যাদের নাম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর তালিকায় রয়েছে, তাদের নতুন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে না এবং জামানতের অর্থও পুনরায় জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এখন নজর ৯ এপ্রিলের ভোটের দিকে—এই উপনির্বাচন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *