রাজধানীর সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশুদের নিয়ে ইফতার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান (Dr. Zubaida Rahman)। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) গুলশানে অবস্থিত জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (Ziaur Rahman Foundation)-এর কার্যালয়ে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত নারী ও শিশু অংশ নেন। আয়োজনজুড়ে ছিল আন্তরিকতা, সংহতি ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার বার্তা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান নারীর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, একটি রাষ্ট্রের অগ্রগতি নির্ভর করে তার নারী ও শিশুদের সুরক্ষা ও বিকাশের ওপর। কন্যাশিশুর নিরাপত্তা এবং মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি—এ বিষয়ে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষার প্রসার কন্যাশিশুদের এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সঠিক প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে একজন কন্যাশিশু দেশের যেকোনো স্থানে নিজেকে সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। নারীদের পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান জানান, মাধ্যমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের তৃতীয় ভাষা শেখানো হবে। এর ফলে দেশ ও বিদেশ—উভয় ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তর থেকে কারিগরি শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পোশাক খাতের কর্মীদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রত্যেক শিল্প-কারখানায় সবেতন ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ডে-কেয়ার সেন্টার, নিরাপদ আবাসন এবং নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থাও থাকতে হবে। একজন কন্যাশিশু ও একজন মা যখন নিরাপদে কর্মস্থলে যেতে পারবেন, তখনই প্রকৃত অর্থে নারীর ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, পরিচালক অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, উপদেষ্টা ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীম, ইঞ্জিনিয়ার হাসিনুর রহমান এবং পরিচালক সাংবাদিক হাফিজ আল আসাদ সাঈদ খানসহ ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দ।


