জনগণই হবে ভিত্তি, দল নয়—ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে স্পষ্ট বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি রাজনৈতিক দল নয়, বরং দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ—এমন স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed)। রোববার (১ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা (Pranay Verma)-র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিতে চায়—পেছনে ফেরাতে নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ককে নতুন করে সাজাতে চায় সরকার। তাঁর ভাষায়, দুই দেশ অভিন্ন সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অংশীদার; এই ঐতিহাসিক বন্ধনকে রাজনৈতিক সমীকরণের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক নির্ভরতাকে দুর্বলতা হিসেবে নয়, বরং শক্তি হিসেবে দেখার সময় এসেছে। সম্পর্কের ভিত্তি হবে অভিন্ন স্বার্থ ও জনগণের সংযোগ।

বৈঠকে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মব সংস্কৃতি ও হামলা প্রতিরোধ, ভারতীয় ভিসা সেন্টার পুনরায় চালু এবং ভিসা প্রদানের হার বৃদ্ধি, সাইবার অপরাধ দমন, সীমান্ত হ’\ত্যা বন্ধকরণ, মহাপরিচালক পর্যায়ে বিজিবি (BGB) ও বিএসএফ (BSF)-এর সম্মেলন, পুলিশ একাডেমিগুলোর মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়, ভারতের আইটিইসি (ITEC) প্রোগ্রামে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানো, বন্দি বিনিময় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়।

সাক্ষাতের শুরুতে মন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। এ সময় মন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-কে অভিনন্দন জানানোর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-কে ধন্যবাদ জানান। হাইকমিশনার আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশ একসঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ককে পুনরুজ্জীবিত করতে পারবে।

ভারতীয় ভিসা সেন্টার চালু ও ভিসা প্রদানের হার বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রী বিশেষভাবে অনুরোধ জানান। জবাবে হাইকমিশনার বলেন, পর্যাপ্ত মেডিকেল ভিসা দেওয়া হচ্ছে। তবে গত দেড় বছরে বিভিন্ন ভিসা সেন্টারে মব হামলা ও বিক্ষোভের কারণে সেগুলো বন্ধ ছিল, ফলে ভিসা প্রদানের হারও কমে যায়। বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে—এমন প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে ভিসা সেন্টার পুনরায় চালু করা হবে এবং ভিসা প্রদানের হারও বাড়ানো হবে বলে তিনি জানান। মন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, ভারতীয় হাইকমিশন ও ভিসা সেন্টারগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং কোনো মব হামলার সুযোগ দেওয়া হবে না।

অনলাইন ভিসা আবেদন প্রসঙ্গে হাইকমিশনার জানান, ভারতীয় ভিসার আবেদন এখন অনলাইনে গ্রহণ করা হচ্ছে, তবে ওয়েবসাইট হ্যাকের চেষ্টাও হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেন।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত হ’\ত্যার ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি সীমান্তে হ’\ত্যার সংখ্যা দ্রুত শূন্যে নামিয়ে আনার আহ্বান জানান।

ভারতের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে হাইকমিশনার আইটিইসি (ITEC) প্রোগ্রামকে উচ্চমানের বলে উল্লেখ করেন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি প্রশিক্ষণার্থীর অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মন্ত্রী জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে এ ধরনের প্রশিক্ষণে আরও বেশি সদস্যকে পাঠানো হবে।

বৈঠকে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের উপ-হাইকমিশনার পাওয়ান বাধে, কাউন্সেলর অভিজিত সপ্তরিশি ও প্রথম সচিব অ্যান ম্যারি জর্জ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম সচিব রেবেকা খানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *