মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত অবনতি হওয়া নিরাপত্তা পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব এসে পড়েছে বাংলাদেশের আকাশপথে। ইরান (Iran), ইরাক, কুয়েত, কাতার (Qatar), সংযুক্ত আরব আমিরাত (United Arab Emirates), বাহরাইন ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের বিঘ্ন। এর জেরে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে দেশে ফেরা প্রবাসীরা।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইসরাইল (Israel)-এর সঙ্গে ইরানের শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ওই দিন থেকে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) পর্যন্ত মোট ১৪৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। শুধু মঙ্গলবারই বাতিল হয়েছে ৩৮টি ফ্লাইট, যা যাত্রীদের অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে—QR (কাতার) ৪টি, EK (এমিরেটস) ৪টি, GF (গালফ এয়ার, বাহরাইন) ৪টি, FZ (ফ্লাইদুবাই) ৪টি, KU (কুয়েত এয়ারওয়েজ) ২টি, J9 (জাজিরা এয়ারওয়েজ, কুয়েত) ৪টি, G9 (এয়ার অ্যারাবিয়া, শারজাহ) ১২টি এবং BS (ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, বাংলাদেশ) ৪টি ফ্লাইট।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Hazrat Shahjalal International Airport)-এ ২৮ ফেব্রুয়ারি বাতিল হয় ২৩টি ফ্লাইট। পরদিন ১ মার্চ সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৪০-এ। ২ মার্চ বাতিল হয় আরও ৪৬টি ফ্লাইট। আর মঙ্গলবার নতুন করে ৩৮টি ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় মোট বাতিলের সংখ্যা গিয়ে ঠেকে ১৪৭-এ।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালানোর পর ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালায়। এতে পুরো অঞ্চলজুড়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। চলমান এই সংঘাতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিমান চলাচলে অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


