নির্দেশে দাতাকে করা হয়নি আসামি, কার্নিশে ঝুলন্ত তরুণকে গুলি মামলায় রায় স্থগিত চায় প্রসিকিউশন

চব্বিশের গণআন্দোলন চলাকালে রাজধানীর রামপুরায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক তরুণকে গু’\লি এবং পৃথক ঘটনায় দুজনকে হ’\ত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণার জন্য বুধবার (৪ মার্চ) দিন ধার্য রয়েছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ (International Crimes Tribunal-1) এ তারিখ নির্ধারণ করেন। তবে নির্ধারিত দিনে রায় ঘোষণা না করতে আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “এ মামলায় নতুন করে কিছু তথ্য-প্রমাণ হাতে এসেছে। সে কারণে বুধবার রায় ঘোষণা না করার জন্য আবেদন করেছি।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন উপাত্তের গুরুত্ব বিবেচনায় আদালতের সামনে বিষয়টি উপস্থাপন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সূত্র জানায়, এক পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশে গু’\লি ছোড়ার অভিযোগ রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কলরেকর্ডও পাওয়া গেছে। তবে তাকে এখনো এ মামলায় আসামি করা হয়নি। বিষয়টি সামনে আসার পর তাকেও আসামি করে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার আবেদন করেছে প্রসিকিউশন।

চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, এ জন্য নতুন করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজন হবে না। আইনে এমন বিধান রয়েছে যে, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সরাসরি তথ্য-প্রমাণ দাখিল করা যায়।

যে ঘটনার সূত্রে মামলা

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন নামের এক তরুণ। পুলিশও তার পিছু নেয়। একপর্যায়ে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকলেও তার ওপর ছয় রাউন্ড গু’\লি ছোড়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গু’\লিতে শহীদ হন নাদিম ও মায়া ইসলাম। পরে এ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা হয়। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১।

এ মামলায় একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। পলাতক অন্য আসামিরা হলেন, ডিএমপি (Dhaka Metropolitan Police)-র সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এবং সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। হাবিবসহ পলাতক চারজনের পক্ষে লড়ছেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন।

গত বছরের ৭ আগস্ট ফর্মাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। ২৯ জানুয়ারি যুক্তি উপস্থাপন সম্পন্ন হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দিসহ নথিপত্রে পাঁচ আসামির সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা চাওয়া হয়।

বিচার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও নতুন তথ্য-প্রমাণ সামনে আসায় রায় ঘোষণার আগে তা বিবেচনার আবেদন জানিয়েছে প্রসিকিউশন। এখন আদালতের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *