তিন সিটি করপোরেশনে মেয়র পদ ঘিরে আলোচনায় জামায়াতের একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী

ঈদুল ফিতরের পরপরই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে—এমন জোর গুঞ্জনের মধ্যেই রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। সম্ভাব্য এই নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ইতোমধ্যেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। পিছিয়ে নেই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)–ও।

দলীয় সূত্র বলছে, সম্ভাব্য নির্বাচন সামনে রেখে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করতে তৃণমূল নেতাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। একই সঙ্গে সম্ভাব্য মেয়র ও অন্যান্য পদের প্রার্থীদের একটি তালিকা দ্রুত কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কাছে পাঠাতে বলা হয়েছে।

জামায়াতের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে এসেছে—ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (Dhaka North City Corporation), ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (Dhaka South City Corporation) এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (Chattogram City Corporation) নির্বাচনে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ডজনখানেক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। এদের বড় একটি অংশ তুলনামূলক তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

ইতোমধ্যেই কয়েকজন সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী নিজ নিজ এলাকায় জনসংযোগ শুরু করেছেন। দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যেও এসব নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে শেষ পর্যন্ত কে মনোনয়ন পাবেন, তা নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর।

ঢাকা উত্তর সিটিতে আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা-১৭ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ডা. এসএম খালিদুজ্জামান। তার পাশাপাশি মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির (Bangladesh Islami Chhatra Shibir)-এর সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলামও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন। তাদের কেউ কেউ ইতোমধ্যেই জনসংযোগে সক্রিয় হয়েছেন।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তার সঙ্গে আলোচনায় আছেন মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন, ড. আব্দুল মান্নান, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ দেলাওয়ার হোসাইন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (Dhaka University Central Students’ Union – DUCSU)-এর ভিপি সাদিক কায়েম।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেও সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে চলছে আলোচনা। সেখানে আলোচনায় আছেন সংসদ সদস্য শাজাহান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরীর আমির মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহান, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় স্কুল বিষয়ক সম্পাদক আ ম ম মশিউর হোসেন, সাবেক কাউন্সিলর অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী এবং অধ্যক্ষ নুরুল আমিন।

এ বিষয়ে দলের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সিটি করপোরেশনে মেয়র বা অন্যান্য পদে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তাব প্রথমে অধস্তন বা তৃণমূল সংগঠন থেকেই আসবে। পরে কেন্দ্রীয় কমিটি তা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত ঘোষণা দেবে।

তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল সংগঠনগুলোকে ইতোমধ্যেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব তারা বৈঠক করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি প্যানেল তৈরি করে পাঠাবে। সেই প্যানেল পাওয়ার পর দলীয় ফোরামে আলোচনা করে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।

এদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শরিকরা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একসঙ্গে অংশ নেবে কি না—সেই প্রশ্নও এখন আলোচনার টেবিলে রয়েছে। যদিও জোটের দলগুলো বলছে, সম্মিলিত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা নিজেদের প্রস্তুতি আলাদাভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে জোটের চূড়ান্ত সমঝোতা বা ‘নেগোসিয়েশন’ কী অবস্থায় পৌঁছায়, তা জানতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *