অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্য নিয়ে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করছে বলে জানিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন (Mohammad Shahabuddin)। রাষ্ট্রপতির মতে, এই উদ্যোগ পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন (Osmani Memorial Auditorium)-এ আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস–২০২৬’ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় (Ministry of Women and Children Affairs)।
রাষ্ট্রপতি জানান, আগামী ১০ মার্চ থেকে এই কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ফ্যামিলি কার্ড উদ্যোগ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলবে এবং পরিবারগুলোর আর্থিক স্বনির্ভরতা বাড়াতে সহায়তা করবে।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যু’\দ্ধ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামে শহিদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, “শহিদদের স্বপ্ন ছিল একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারলেই আমরা তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত প্রতিদান দিতে পারব।”
নারীর অর্থনৈতিক অবদান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের মোট জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ অবদান আসে নারীদের কাছ থেকে। গৃহস্থালির কাজ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি, শিল্প-সাহিত্য, কলকারখানা ও নির্মাণসহ প্রায় সব ক্ষেত্রেই নারীর অবদান উল্লেখযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, নারীর উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও এর সুফল পেতে হলে ঘরে-বাইরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
নারী নি’\র্যা’\তন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সামাজিক হয়রানির পাশাপাশি অনলাইনে নারীদের চরিত্রহনন ও সাইবার বুলিং নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকার বিশেষ ব্যবস্থা নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কন্যাশিশুর ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহকে বড় একটি সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এসব সমস্যা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে।


