দিল্লির আধিপত্য মেনে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি—কঠোর অভিযোগ ব্যারিস্টার ফুয়াদের

বিএনপি সরকার ইতোমধ্যেই অন্ধ রাজনৈতিক আচরণ শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ (Barrister Asaduzzaman Fuad), যিনি আমার বাংলাদেশ পার্টি (Amar Bangladesh Party – AB Party)-এর সাধারণ সম্পাদক।

রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর তোপখানা রোডে সিরডাপ মিলনায়তনে গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলেও নানা বিতর্কিত পদক্ষেপ ধীরে ধীরে শুরু হয়েছিল, কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP) সরকার শপথের দিন থেকেই সেই ধরণের আচরণ শুরু করেছে। তার ভাষায়, এসব রাজনৈতিক নাটক চাইলে শপথ গ্রহণের পরেও করা যেত। কিন্তু তারা শপথ না নিয়েই প্রথম দিন থেকে গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করার মাধ্যমে এক ধরনের বার্তা দিতে চাইছে।

তিনি দাবি করেন, বাস্তবে তারা দিল্লির আধিপত্যবাদকে মেনে নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ক্ষমতায় আসার পেছনে তাদের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো কোনো না কোনো রূপে আওয়ামী লীগ (Awami League)-এর ‘ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে’ পুনর্বাসন করা।

গণঅভ্যুত্থানের সরকারের আইনি অবস্থান নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে এবি পার্টির এই নেতা বলেন, দেশের মানুষ যে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পরিবর্তন চেয়েছিল, সেই সরকারকে যথাযথ মর্যাদা ও সম্মান দেওয়া যায়নি। তার মতে, সেই সরকারের যে আইনি স্বীকৃতি বা লিগ্যাল স্ট্যাটাস দেওয়ার কথা ছিল, তা করা হয়নি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি গণঅভ্যুত্থানকে ক্যান্টনমেন্ট হয়ে বঙ্গভবন ঘুরে শেষ পর্যন্ত অ্যাটর্নি জেনারেলের পকেট থেকে সংবিধানের ১০৬ ধারা বের করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (Bangladesh Supreme Court)-এর ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। “এটাই আমাদের আদি পাপ,” বলেন তিনি। তার মতে, সেই ‘১০৬ ধারার পাপ’ এখনো দেশের রাজনীতিকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।

ফুয়াদ আরও বলেন, বর্তমানে জুলাই সনদকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। শুধু তাই নয়, জুলাই সনদের অধ্যাদেশ এবং গণভোটের বৈধতাও নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। তার মতে, এর পেছনে মূল কারণ হলো—পূর্ববর্তী সরকারের আইনি অবস্থান স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হয়নি।

তিনি দাবি করেন, দেশে এখনো এমন অনেক ‘৭২ পূজারী’ রয়েছেন যারা বারবার সেই শাসনব্যবস্থাকে সাংবিধানিক সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছেন। অথচ বাস্তবে সেই সরকারের মধ্যে সাংবিধানিক সরকারের কোনো বৈশিষ্ট্য ছিল না বলে তিনি মনে করেন। ফুয়াদের ভাষায়, শুধু বঙ্গভবনে গিয়ে কয়েকটি লাইন উচ্চারণ করলেই কোনো সরকার সংবিধানসম্মত হয়ে যায় না।

বর্তমান বিএনপি সরকারও একই ধরনের রাজনৈতিক চোরাবালিতে পা দিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, আওয়ামী লীগ প্রশ্ন এবং দিল্লির প্রভাবের বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পারার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ১৯৭৫–পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় যেভাবে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছিল, ২০২৪–পরবর্তী পরিস্থিতিতেও একই ধরনের ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

বিএনপির বিরুদ্ধে ‘শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগও তোলেন এবি পার্টির এই নেতা। তিনি বলেন, সম্প্রতি ঘোষিত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পুরস্কারেও সেই গণঅভ্যুত্থানের প্রতিফলন দেখা যায়নি। ইতোমধ্যে স্বাধীনতা পুরস্কার এবং ‘অদম্য নারী’ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু সেখানে ২০২৪ সালের আন্দোলনের কোনো নায়ক বা অবদানকারীর স্বীকৃতি নেই।

তার মতে, এটি দলীয় সংকীর্ণতা এবং অকৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ, যার জন্য বিএনপিকে রাজনৈতিক মূল্য দিতে হবে।

বক্তব্যের শেষ দিকে তিনি বিএনপি সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ক্ষমতার মোহে তাদের চোখে যেন ছানি পড়ে গেছে। সচিবালয়, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন যমুনা কিংবা মিন্টু রোড—সব জায়গাতেই সেই অন্ধত্বের ছাপ দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ করে ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, দ্রুত সেই ছানির অপারেশন করে চোখ পরিষ্কার করতে হবে। অন্যথায় দলের রাজনীতি ও দেশের ভবিষ্যৎ—দুটোই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে, যার পরিণতি থেকে কেউই রক্ষা পাবে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *