চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া চার রাষ্ট্রদূত ও এক হাইকমিশনারকে তাদের পদ থেকে প্রত্যাহার করেছে সরকার। রোববার (৮ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Foreign Affairs) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
প্রত্যাহার করা কূটনীতিকরা হলেন—পর্তুগালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. মাহফুজুল হক (M. Mahfuzul Haque), পোল্যান্ডে রাষ্ট্রদূত মো. ময়নুল ইসলাম (Md. Moinul Islam), মেক্সিকোতে রাষ্ট্রদূত এম মুশফিকুল ফজল আনসারী (M. Mushfiqul Fazal Ansarey) এবং মালদ্বীপে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম (Md. Nazmul Islam)। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম (Abida Islam)-কেও প্রত্যাহার করে সদর দপ্তরে বদলি করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এসব রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনারকে ‘অতিসত্বর’ মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার লন্ডনে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে আবিদা ইসলামকে প্রত্যাহারের বিষয়টি জানান প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus)-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিদেশে বিভিন্ন বাংলাদেশ মিশনে ব্যাপক পরিবর্তন আনে। ওই সময় বেশ কয়েকজন কূটনীতিককে সরিয়ে নতুন করে বিভিন্ন মিশনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে সাংবাদিকতা করা মুশফিকুল ফজল আনসারীকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে মেক্সিকোতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো হয়। এর আগে তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সহকারী প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও জাতিসংঘে বাংলাদেশ বিষয়ক বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে আলোচনায় আসেন তিনি।
অন্যদিকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে সরকারি চাকরি শেষে শিক্ষকতায় যুক্ত হওয়া মাহফুজুল হককে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিন বছরের চুক্তিতে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় নিয়োগ দিয়ে পর্তুগালে রাষ্ট্রদূত করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ময়নুল ইসলামকে পুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। সাড়ে তিন মাস দায়িত্ব পালন শেষে তার চাকরিজীবন শেষ হলে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে তাকে পোল্যান্ডে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানো হয়।
এ ছাড়া মালদ্বীপে হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া নাজমুল ইসলাম তুরস্কের আঙ্কারা ইলদিরিম বেয়াজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন। মাত্র ৩৩ বছর বয়সী নাজমুল ইসলামকে ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই দুই বছরের চুক্তিতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল ইউনূস সরকার।


