মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডুমসডে প্লেন’ E-6B মার্কারি, বাড়ছে পারমাণবিক উত্তেজনার জল্পনা

মধ্যপ্রাচ্য ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমান E-6B মার্কারি মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে। সামরিক বিমানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী ওপেন সোর্স বিশ্লেষকদের তথ্য উদ্ধৃত করে ৫ মার্চ এ খবর প্রকাশ করেছে BankingNews (BankingNews)।

E-6B মার্কারি বিমানটি মূলত একটি আকাশভিত্তিক কমান্ড পোস্ট হিসেবে কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পারমাণবিক সাবমেরিনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়াই এর অন্যতম প্রধান কাজ।

এই বিমানে এমন একটি বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে যার মাধ্যমে পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনকারী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জন্য প্রয়োজনীয় লঞ্চ কোড প্রেরণ করা সম্ভব। ফলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, E-6B মার্কারির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—ভূমিভিত্তিক কমান্ড অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেলেও এই বিমান থেকে পারমাণবিক বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখা সম্ভব। উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তির কারণে বিমানটি আকাশ থেকেই সামরিক কমান্ডের ভূমিকা পালন করতে পারে।

৪ মার্চ প্রথমবারের মতো এই বিশেষায়িত বিমানের মধ্যপ্রাচ্যের দিকে উড্ডয়নের খবর সামনে আসে। এরপর থেকেই সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেলে এই ধরনের বিমান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কারণ, E-6B মার্কারি নিশ্চিত করে যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সাবমেরিন, সাইলো-ভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার এবং কৌশলগত বোমারু বিমান—সব প্ল্যাটফর্ম থেকেই পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের চূড়ান্ত নির্দেশ পেতে সক্ষম হবে।

এই ধরনের উন্নত বিমান ব্যবস্থার আধুনিকায়নও চলমান রয়েছে। ২০২৩ সালের জুন মাসের শুরুতে US Navy (United States Navy) নর্থরপ গ্রুমম্যানের কাছ থেকে তাদের প্রথম আপগ্রেড করা E-6B মার্কারি গ্রহণ করে। এই আধুনিকায়নের মূল লক্ষ্য ছিল বিমানের অভ্যন্তরীণ সরঞ্জাম এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা।

তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতিতে এই বিমানের নির্দিষ্ট ভূমিকা এখনো স্পষ্ট নয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র (United States) ও ইসরায়েল (Israel) ইরানের বিরুদ্ধে যে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, তার সঙ্গে এই মোতায়েনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না—তা নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইরান (Iran)-এর বিরুদ্ধে অন্তত ১০০ দিনের একটি সামরিক অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করছে, যা সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন সম্ভাব্য পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটে এই অঞ্চলে কৌশলগত সামরিক সম্পদ মোতায়েনের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যে E-6B মার্কারি মোতায়েন সামরিক পর্যবেক্ষকদের কাছে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা এই অঞ্চলে ভবিষ্যৎ সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন ও জল্পনার জন্ম দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *