নিজ নির্বাচনী এলাকা ঢাকা-১৭-এ আজ বহু প্রতীক্ষিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)। রাজধানীর মহাখালী এলাকার কড়াইল টিএন্ডটি মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি কড়াইল বস্তির নারীদের হাতে এই কার্ড তুলে দেবেন। একই সঙ্গে সুবিধাভোগী নারীদের মোবাইল ফোনে পৌঁছে যাবে প্রথম মাসের নগদ সহায়তা।
সরকারপ্রধানের কাছ থেকে প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা পাওয়ার খবরে কড়াইল এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও আনন্দের আবহ। দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো মনে করছে, এই উদ্যোগ তাদের জীবনে কিছুটা হলেও স্থিতি এনে দিতে পারে।
দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত অবস্থায় বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party)–এর পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন তারেক রহমান। পরে ঢাকা-১৭ আসনের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী প্রচারণার সময় কড়াইল বস্তিতে আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার এক মাসও পূর্ণ হওয়ার আগেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় কড়াইল টিএন্ডটি মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এলাকায় ইতোমধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
প্রথম পর্যায়ে কড়াইলের পাশাপাশি সাততলা, ভাষানটেক এবং মিরপুর এলাকার আরও কয়েকটি বস্তির বাসিন্দাদের মধ্যেও এই কার্ড বিতরণ করা হবে। স্থানীয়দের মধ্যে এ উদ্যোগকে ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
কড়াইলের নিম্ন আয়ের নারীরা জানিয়েছেন, কার্ড পাওয়ার জন্য তারা আগে থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিয়েছেন। এসব তথ্যের মধ্যে রয়েছে নাম, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য।
এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কড়াইল বস্তির বাসিন্দারা। তাদের আশা, নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পেলে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় সামলানো সহজ হবে, সন্তানের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক চাপ কিছুটা হলেও কমবে। বিশেষ করে পরিবারের নারী সদস্যদের হাতে কার্ড দেওয়া হচ্ছে বলে পুরুষ সদস্যদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
জানা গেছে, পাইলটিং কর্মসূচির প্রথম ধাপে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের মোট ১৫টি ওয়ার্ডে এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সারাদেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাই করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের পর ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। পরবর্তী পর্যায়ে একই ব্যক্তির একাধিক ভাতা গ্রহণ, সরকারি চাকরি কিংবা পেনশনসহ বিভিন্ন কারণে কিছু পরিবার বাদ দেওয়া হয়।
সবশেষে যাচাই শেষে সারাদেশে মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আর্থিক ভাতা দেওয়ার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।


