ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ দারিদ্র্য বিমোচনে ইতিহাসের মাইলফলক: আমির খসরু

দেশের দারিদ্র্য বিমোচন কার্যক্রমে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (Amir Khasru Mahmud Chowdhury)। তার ভাষায়, এই উদ্যোগ শুধু একটি প্রশাসনিক কর্মসূচি নয়—এটি নিম্ন ও হতদরিদ্র মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পথে একটি বড় মাইলফলক।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম (Chattogram) মহানগরীর বিমানবন্দর উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির কেন্দ্রবিন্দু হবে নিম্ন আয়ের এবং হতদরিদ্র মানুষের সমস্যা সমাধান। তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য নেওয়া প্রতিটি প্রকল্প স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, বিএনপি (Bangladesh Nationalist Party) দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই দরিদ্র কৃষকদের প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে। একইসঙ্গে সরকার দ্রুতগতিতে ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছে।

আমির খসরু বলেন, প্রথম ধাপে হতদরিদ্রদের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকেও এর আওতায় আনা হবে। দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী অতীতের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগে একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হতো। কিন্তু এখন কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে দ্রুত সিদ্ধান্ত ও বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে। এই উদ্যোগে কোনো দলীয়করণের সুযোগ রাখা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন। তার মতে, রাষ্ট্রের সুবিধা সবার কাছে সমানভাবে পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।

বিশেষ করে নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি। তার বক্তব্যে উঠে আসে—নারীদের ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণেও নারীপ্রধান পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রতীকীভাবে কয়েকটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন মন্ত্রী। পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রথম ধাপে মহানগরীর ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ৫ হাজার ৫৭৫ জন নারীকে এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডা. শাহাদাত হোসেন (Dr. Shahadat Hossain), মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (Chattogram City Corporation) এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (Mir Mohammad Helal Uddin) সহ অন্যান্য অতিথিরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *