টোকিওতে ইন্দো-প্যাসিফিক জ্বালানি নিরাপত্তা ফোরামে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করা, টেকসই জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং জ্বালানি খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে জাপানের রাজধানী টোকিওতে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘ইন্দো-প্যাসিফিক এনার্জি সিকিউরিটি মিনিস্টেরিয়াল অ্যান্ড বিজনেস ফোরাম’। ১৪ থেকে ১৫ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য এই উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক ফোরামে অংশ নিতে বর্তমানে টোকিও সফর করছেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (Iqbal Hasan Mahmud)।

এই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক আয়োজনটি যৌথভাবে পরিচালনা করছে US National Energy Dominance Council এবং জাপানের Ministry of Economy, Trade and Industry (METI)। আয়োজকদের মধ্যে রয়েছেন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও মার্কিন স্বরাষ্ট্র সচিব Doug Burgum, ভাইস চেয়ারম্যান ও মার্কিন জ্বালানি সচিব Chris Wright এবং জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী Akazawa Ryosei

ফোরামে বাংলাদেশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জ্বালানি মন্ত্রীরা অংশ নিচ্ছেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তিমুর-লিস্তে এবং ভিয়েতনাম।

এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী মন্ত্রীরা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি শক্তিশালী, নির্ভরযোগ্য এবং স্থিতিশীল জ্বালানি কাঠামো গড়ে তোলার সম্ভাব্য কৌশল নিয়ে আলোচনা করবেন। দ্রুত সরবরাহযোগ্য, সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ জ্বালানি নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।

সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির বাইরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও ব্রুনাইসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এসব বৈঠকের মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং জ্বালানি খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য নতুন অংশীদারিত্বের সুযোগ খুঁজে বের করা।

বিশ্লেষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই প্রেক্ষাপটে এই আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ দেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *