দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে—এমনটাই স্পষ্টভাবে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় (Ministry of Power, Energy and Mineral Resources)। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু এলাকায় জ্বালানি তেলের ঘাটতি নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সরাসরি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক অনুরোধে জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়। এ প্রচারণায় অংশ নিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় (Ministry of Information and Broadcasting)।
অনুরোধে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমত, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত ও স্বাভাবিক সরবরাহ রয়েছে—এমন অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং আতঙ্ক না ছড়িয়ে সচেতন আচরণ করতে বলা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ হওয়ায় এগুলো অবৈধভাবে মজুত করা বিপজ্জনক। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি অন্যদেরও সতর্ক করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তৃতীয়ত, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রতিটি জেলায় বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট সক্রিয় রয়েছে। অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
চতুর্থত, সরকার এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেনি। ফলে অতিরিক্ত মুনাফার আশায় কেউ যাতে অবৈধভাবে তেল মজুত না করে, সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
পঞ্চমত, চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেল ক্রয় করছে। ফলে সরবরাহ ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই—এ বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জ্বালানি তেল মজুত প্রতিরোধ, বিপণনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরবরাহ অব্যাহত রাখতে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে ইতোমধ্যে বিজিবি (Border Guard Bangladesh) মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়েছে। এতে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় কিছু মহল অননুমোদিতভাবে তেল মজুতের চেষ্টা করছে।
তিনি আরও জানান, এই অপচেষ্টা প্রতিরোধ, জ্বালানি বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Home Affairs)-এর নির্দেশে বিজিবি মাঠে কাজ করছে।


